আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ২০ বছর বয়সী তরুণ আন্দোলনকারী আরভিন খেইরখাহর (Arvin Kheirkhah) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে চলা তীব্র আন্দোলনের সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিপ্লবী আদালত তাঁর বিরুদ্ধে ‘মহারেবেহ’ বা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো গুরুতর রাষ্ট্রদ্রোহী অভিযোগ এনে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়। শাহরুদ কারাগারে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ও একাকী বন্দিদশায় পাঠানোর পর তাঁর এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার আগে খেইরখাহর পরিবার ও স্বজনেরা কারাগারের বাইরে দীর্ঘ সময় ধরে জড়ো হয়ে শেষ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে শেষ বিদায়ে স্বজনদের উদ্দেশে এই তরুণ আন্দোলনকারী বলে যান, "আমাকে কেউ যেন ভুলে না যায়। আমরা মাতৃভূমির স্বাধীনতার লড়াইয়ে দাঁড়িয়েছিলাম, তাই আমাদের এই আত্মত্যাগের পথকে যেন স্তব্ধ হতে দেওয়া না হয়"। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের নির্বাসিত প্রাক্তন ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আরও বহু বিক্ষোভকারী বর্তমানে ফাঁসির চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। জাভেদ আজম, মোর্তেজা জামানি ও মেহেদি রঞ্জারের মতো অন্তত আধডজন তরুণের নাম উল্লেখ করে তাঁদের জীবন বাঁচানোর আকুতি জানানো হচ্ছে।
এর আগে ইসফাহানের আলিখানি স্কোয়ারে আমিরহোসেন সাফারি ও আবোলফজল সেপাহি নামের দুই তরুণকে জনসমক্ষে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। বিক্ষোভ দমনে তেহরানের এই অনমনীয় মনোভাব ও কঠোর সাজার নীতি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের জোয়ার তুলেছে। জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো রুদ্ধদ্বার বিচার, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়া এবং টিভিতে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি প্রচারের মতো বিষয় নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক সংকটের অজুহাতে মৃত্যুদণ্ডকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তেহরান সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে বলে তোপ দাগছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
















