আজকাল ওয়েবডেস্ক: হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। কিন্তু কথা দিয়েও কথা রাখলেন না। ফের যুদ্ধের আবহে আক্রান্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। আবারও দুবাইয়ে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ। এবার ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়েছে দুবাই মারিনা টাওয়ারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে দুবাই মারিনার একটি টাওয়ারের ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ে। সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাওয়া যায়। ওই টাওয়ারের কিছু অংশ ধসে পড়তেও দেখা গেছে। ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই।
আমিরশাহী প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বায়ুসেনা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। গোটা এলাকায় আঁটসাঁট নিরাপত্তা রয়েছে। ইরানের ছোড়া ১৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১২১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। একটি মিসাইল সমুদ্রে আছড়েপড়েছে। অন্যদিকে ১২১টি ড্রোনের মধ্যে ১১৯টিকে ধ্বংস করেছেন সেনা জওয়ানরা।
গতকাল আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান যুদ্ধের আবহে প্রথমবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। তাঁর কথায়, এই সংঘাতের আবহে সঙ্কট কাটিয়ে শীঘ্রই আরও শক্তিশালী হয়ে তাঁরা ফিরে আসবেন। যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সর্বক্ষণ প্রস্তুত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। একটি শর্তে আর আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
এদিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিলেন, উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলির সঙ্গে ইরানের শত্রুতা নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় আর মদত না দিলে, কোনও প্রতিবেশী দেশেই ইরান হামলা করবে না।
এর পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজ়েশকিয়ান। গতকাল শুক্রবার ডোনাল ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, 'ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হবে, কোনও কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার আগেই। যদি একজন সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচিত হন, তবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও এবং অন্যান্য দেশগুলি মিলিত হয়ে ইরানকে ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। ইরানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে এবং দেশটিকে আবার শক্তিশালী করতে একযোগে কাজ করা হবে।'
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, 'এটা ট্রাম্পের একটা স্বপ্ন এবং এই স্বপ্ন নিয়েই তাঁকে সমাধিস্থ হতে হবে।' অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের কাছে এখনই মাথা নত করবে না ইরান।
গত শনিবার সকালে ইরানের তেহরানে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একযোগে হামলা চালায়। এই হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের প্রাক্তন শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পরেই ইরানে প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের সেই কাউন্সিল দেশ চালাচ্ছে।
এই হামলার পরেই ইরানের তরফে প্রতিবেশী দেশগুলিতে পাল্টা হামলা করা হয়। বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটি আক্রমণ করছিল ইরান। যা ঘিরে সমালোচনার মুখেও পড়ে ইরান। এবার ইরানের প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়ে দিলেন, সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে আর কোনও প্রতিবেশী দেশে হামলা করবে না ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনও দেশ থেকে ইরানের উপর হামলা না হলে, তারাও আর হামলা করবে না।
