সাপের কামড়ে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন এবং তাঁদের মধ্যে বহু মানুষের মৃত্যু বা স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হয়।
2
10
এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা ভবিষ্যতের চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। গবেষণায় উঠে এসেছে, সাপের শরীরেই লুকিয়ে রয়েছে আরও কার্যকর অ্যান্টিভেনম তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।
3
10
বর্তমানে সাপের বিষের প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম সাধারণত ঘোড়া বা অন্য বড় প্রাণীর শরীরে অল্প পরিমাণ বিষ প্রবেশ করিয়ে তৈরি করা হয়।
4
10
প্রাণীর শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে তা থেকে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতি বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হলেও সব ধরনের সাপের বিষের বিরুদ্ধে সমানভাবে কার্যকর নয় এবং অনেক সময় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায়।
5
10
সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, কিছু সাপ নিজেদের বা একই প্রজাতির অন্য সাপের বিষের বিরুদ্ধে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। তাদের রক্তে এমন কিছু বিশেষ প্রোটিন ও প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডি রয়েছে, যা বিষের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে দিতে সক্ষম।
6
10
গবেষকদের মতে, এই প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা গেলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত, নিরাপদ এবং বিস্তৃত কার্যকারিতাসম্পন্ন অ্যান্টিভেনম তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে এমন অ্যান্টিভেনম তৈরি করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা একাধিক প্রজাতির বিষাক্ত সাপের বিষের বিরুদ্ধেও কাজ করবে।
7
10
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত সাপ রয়েছে এবং প্রতিটি সাপের বিষের রাসায়নিক গঠন আলাদা। ফলে এক ধরনের অ্যান্টিভেনম সব ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না। নতুন গবেষণার মাধ্যমে যদি সাপের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে।
8
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু নতুন ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রেই নয়, সাপের বিষ কীভাবে শরীরে কাজ করে এবং কীভাবে তাকে নিষ্ক্রিয় করা যায়, সেই বিষয়েও নতুন ধারণা দেবে। এর ফলে বায়োমেডিক্যাল গবেষণা এবং টক্সিন-ভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।
9
10
তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের জন্য কার্যকর ও নিরাপদ অ্যান্টিভেনম তৈরি করতে আরও বহু ধাপের গবেষণা, পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রয়োজন হবে।
10
10
তবুও এই গবেষণা ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, সাপের শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার রহস্য উন্মোচিত হলে আগামী দিনে আরও উন্নত অ্যান্টিভেনম তৈরি সম্ভব হবে, যা সাপের কামড়ে মৃত্যুর হার কমাতে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।