আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরোত্তর তীব্র হয়ে ওঠা উপসাগরীয় সংঘাতের আবহে সোমবার সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান তেল শোধনাগার Ras Tanura oil refinery-তে ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, লক্ষ্য করে পাঠানো ড্রোনগুলো মাঝআকাশেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
সরকারি সংবাদ সংস্থা Saudi Press Agency-র মাধ্যমে এক সামরিক মুখপাত্র এই তথ্য জানান। ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত অনলাইন ভিডিওতে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোন প্রতিহত করা গেলেও তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ড বা হতাহতের ঝুঁকি থেকেই যায়।
পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কাছে অবস্থিত রাস তানুরা শোধনাগারের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা পাঁচ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি। এই হামলার পর রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা Saudi Aramco সাময়িকভাবে শোধনাগারের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে বলে জানা গেছে। যদিও সংস্থার তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র আল-আরাবিয়া টিভিকে জানান, আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা অন্তত দুটি ড্রোন আটকানো হয়েছে।
এই হামলা এমন সময়ে হল, যখন বিশ্ব তেলের বাজার চরম অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলা সামরিক সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচলাবস্থায় পড়েছে। বিশ্বের দৈনিক তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না হলেও নিরাপত্তা আশঙ্কায় বহু জাহাজমালিক চলাচল স্থগিত রেখেছেন, ফলে তৈরি হয়েছে কার্যত ‘বটলনেক’।
&t=21sবাজারে তার প্রভাব স্পষ্ট। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার সকালের লেনদেনে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছয়। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উপসাগরীয় রপ্তানিতে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্ন হবে, আর তার অভিঘাত পড়বে বিশ্ব মুদ্রাস্ফীতিতে।
সপ্তাহ শেষে সংঘাত নতুন মোড় নেয়, যখন আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তার পাল্টা জবাবে তেহরান ইজরায়েল ছাড়াও সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
এর আগেও সৌদি আরব জানিয়েছিল, রাজধানী রিয়াধ ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। রিয়াধ স্পষ্ট ভাষায় তেহরানের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বা ইজরায়েলি অভিযানে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি।
সৌদি বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়, “ইরানের প্রকাশ্য ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে সৌদি আরব। কোনও অজুহাতেই এই আক্রমণকে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না।” এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রিয়াধে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতিকে তলব করা হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে এই ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে এখন গভীর উদ্বেগ।
