আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের নাম বদলে যাচ্ছে। এই দপ্তরের নয়া নাম হবে 'যুদ্ধের দপ্তর'। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবারই  এই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করতে চলেছেন। ফক্স নিউজ ডিজিটালকে হোয়াইট হাউসের একজন শীর্ষ আধিকারিক বিষয়টি নিশ্চিৎ করেছেন।

এই বদলের ফলে প্রতিরক্ষার পরিবর্তে পিট হেগসেথ হবেন 'যুদ্ধ সচিব'। পাশাপাশি পেন্টাগন-ও 'যুদ্ধ বিভাগ' ব্যবহার করবে। পরিবর্তমেন অংশ হিসাবে, পেন্টাগনের ওয়েবসাইট, অফিস সাইনবোর্ড এবং এমনকি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ব্রিফিং রুম আপডেট করা হবে। প্রেস রুমের নাম পরিবর্তন করে "পেন্টাগন ওয়ার অ্যানেক্স" রাখা হবে। মার্কিন প্রশাসেনর আধিকারিকরা আরও জানিয়েছেন যে, নাম পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

কেন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের নাম বদলে হচ্ছে 'যুদ্ধের দপ্তর'? গত ২৫শে আগস্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ব্য়াখ্যা দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, "যুদ্ধ বিভাগের আওতায় মার্কিন সেনাবাহিনীর বড় বড় জয়ের ইতিহাস রয়েছে। যা সকলের গর্বের। কিন্তু, পিটার হেগসেথ (মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব)-এর মুখে প্রতিরক্ষা দফতর নামটি শুনেই আমার খারাপ লাগে। তারপর আমি প্রতিরক্ষা বিভাগকে 'যুদ্ধ দপ্তর' নামকরণের নির্দেশ দিয়েছি।"

ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা যুদ্ধ করে জেতে, রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করে না। তাই প্রতিরক্ষা দপ্তর শব্দবন্ধ ঠিক মানানসই নয়। তাই নাম পাল্টে হচ্ছে 'যুদ্ধ দপ্তর'।

হেগসেথকে ট্রাম্প ইতিমধ্যেই মাঝে মাঝে 'যুদ্ধ সচিব' বলে অভিহিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে, এই পরিবর্তন পেন্টাগনের অভ্যন্তরে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের জন্য প্রশাসনের চাপের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।  

হেহগসেথ বলেছেন, "আমরা প্রতিরক্ষা বিভাগের আওতায় নয়, বরং যুদ্ধ বিভাগের আওতাধীন অবস্থায় প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জিতেছি। তাই এই বদল যথাযত। আমরা কেবল প্রতিরক্ষা নই, আমরা আক্রমণাত্মক। আমরা যোদ্ধা চাই, যারা যুদ্ধক্ষেত্রে কীভাবে জয়লাভ করতে হয় তা জানে। শব্দ এবং নাম গুরুত্বপূর্ণ।" 

যুদ্ধ বিভাগের ইতিহাস-

উল্লেখ্য, ১৭৮৯ সালে আমেরিকায় 'যুদ্ধ দপ্তর' নামে একটি বিভাগ ছিল।

১৯৪৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো তাদের সামরিক নেতৃত্বের জন্য যুদ্ধ বিভাগের উপাধি ব্যবহার করত। সেই বছর, ১৯৪৭ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে সংস্কারের পর, সংস্থাটির নামকরণ করা হয় প্রতিরক্ষা বিভাগ, যা একটি বৃহত্তর কাঠামো প্রতিফলিত করে যা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং নবনির্মিত বিমান বাহিনীকে এক ছাতার নীচে একত্রিত করেছিল।

যদি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পেন্টাগনের পরিচয়ে প্রথম বড় প্রতীকী পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হবে।

আরও পড়ুন-  মোদি-ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক 'শেষ', যা সকলের শিক্ষনীয়, ইঙ্গিতপূর্ণ সতর্কবার্তা প্রাক্তন মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টার