আজকাল ওয়েবডেস্ক: দ্বিতীয় দফার সমঝোতা বৈঠকে শেষমেশ রাজি ইরান। ইতিমধ্যেই আমেরিকার পাশাপাশি ইরানের প্রতিনিধিদল পৌঁছেছেন পাকিস্তানে। তার আগেই হরমুজে ইরানের পতাকা লাগানো জাহাজ আটক মার্কিন নৌবাহিনীর। শনিবার এমনই দাবি করল আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যাতায়াতের জন্য আটক করা হয় ওই জাহাজকে।

আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের এক্স হ্যান্ডেলে দাবি করেছে, হরমুজে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ জারি রয়েছে। তার মধ্যেই ইরানের একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছনোর চেষ্টা করে। আর তারপরই সেই জাহাজকে আটক করা হয়। ঘটনাটি ২৪ এপ্রিলের। মার্কিন রণতরী ইউএসএস রাফেল-এর তরফেই আটক করা হয় ওই জাহাজ। এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশ করা হয়েছে আটক করা জাহাজের ছবিও।

 

উল্লেখ্য, হরমুজে মার্কিন অবরোধ জারি থাকায় কোনও জাহাজই ইরানের বন্দরে পৌঁছতে পারছে না। আবার বন্দর ছেড়ে কোথাও যেতেও পারছে না। যদিও এই প্রথম নয়, ইরান-আমেরিকার দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকায়, ক্রমাগত দু'পক্ষের জাহাজ বা আটকের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বিশ্বের গ্যাস ও তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, শুক্রবারই দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠকে যোগ দেওয়ায় রাজি হয়েছে ইরান। শুক্রবার রাতেই পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার শনিবার পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দেবেন। তবে ইরান ও আমেরিকা কবে ও কখন দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসছে, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।

 

তবে প্রথম দফার শান্তিবৈঠকে যোগদানকারী দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে কিছুজন অনুপস্থিত থাকবেন দ্বিতীয় দফায়। দেশর প্রথম দফার বৈঠকেও আমেরিকার প্রতিনিধিদলে উইটকফ এবং কুশনার ছিলেন। তবে ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়। টানা ২১ ঘণ্টা কথাবার্তার পরেও সমঝোতায় আসতে পারেনি ইরান বা আমেরিকা। আর তাই দ্বিতীয় দফার আলোচনায় ভান্সকে পাঠাচ্ছেন না ট্রাম্প। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে যা আলোচনা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প এবং ভান্সকে অবগত করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হবে। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলে এবার নেই সেখানকার পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি এবং আরাঘচিই গত আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন। এ বার শুধু ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে গিয়েছেন।