আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরে বড় রদবদল। ব়্যান্ডি জর্জ যিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, তাঁকে হঠাৎই পদ ছেড়ে অবসর নিতে বলা হয়েছে। শুক্রবার এই নির্দেশ দেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। এর জেরে মার্কিন সামরিক নেতৃত্বে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।


পেন্টাগনের তরফে জানানো হয়েছে, জর্জ অবিলম্বে অবসর নিচ্ছেন এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ ক্রিস্টোফার লানেভে। তবে কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। যদিও সূত্রের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাময়ির নীতিতে পরিবর্তন চাইছিলেন। 


মার্কিন সংবাদমাধ্যম রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা সচিব এমন একজনকে সেনাপ্রধান হিসেবে দেখতে চাইছিলেন, যিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক দৃষ্টিভঙ্গিকে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারবেন। অন্যদিকে বৃহস্পতিবারই জর্জের সঙ্গে যোগাযোগ করে হেগসেথ তাঁকে অবসর নেওয়ার কথা জানান এবং বলেন, “সেনাবাহিনীতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় এসেছে।”


যদিও এই পদক্ষেপের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে বলেন, “জেনারেল জর্জের দীর্ঘদিনের সেবার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ এবং তাঁর অবসর জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানাই।”


এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে আরও বড় রদবদলের জল্পনা শুরু হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর তুলসি গ্যাবার্ড, আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকোল এবং শ্রম সচিব লরি চাভেজ-ডিরেমারের পদত্যাগ নিয়েও আলোচনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।


উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হেগসেথ দ্রুতগতিতে দফতরের পুনর্গঠন শুরু করেছেন। গত এক বছরে তিনি একাধিক উচ্চপদস্থ জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে সরিয়ে দিয়েছেন বা অবসর নিতে বাধ্য করেছেন। জর্জের অপসারণ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।


এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও বড়সড় রদবদল হয়েছিল, যেখানে নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রাঞ্চেটি এবং বিমানবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল চার্লস “সিকিউ” ব্রাউনকেও পদ থেকে অপসারণ করেন।


জেনারেল জর্জের সামরিক জীবন ছিল দীর্ঘ ও অভিজ্ঞতায় ভরপুর। তিনি ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারি অ্যাকাডেমির স্নাতক ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যেখানে সাধারণত চার বছরের মেয়াদ থাকে।


এর আগে তিনি সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিনের সামরিক উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২১-২২ সালে তিনি অস্টিনের শীর্ষ সামরিক সহায়ক ছিলেন।

 

&t=2s
সব মিলিয়ে, মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই আকস্মিক পরিবর্তন নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—সামরিক নেতৃত্বে এই দ্রুত রদবদল কি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন? আগামী দিনে এর প্রভাব কতটা গভীর হয়, সেটাই এখন দেখার।