আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার পাশপাশি মধ্য এশিয়াতেও বেজেছে যুদ্ধের দামামা। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। তবে ইদের আগে কিছুটা শান্তিরক্ষার চেষ্টা দেখা গেল পাকিস্তানের তরফে।
পাকিস্তান ঘোষণা করেছে সাময়িক যুদ্ধবিরতির। এই বিরতি থাকবে ইদ-উল-ফিতহর উপলক্ষে। বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার এই বিরতি ঘোষণা করেন। তাঁর কথায়, “আমাদের বন্ধু দেশ, যেমন সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্ক আমাদের অনুরোধ করেছে এই ইদের সময়ে বিরতির জন্য। সামনে ইদ। সেই কথা মাথায় রেখে এবং ইসলামিক মূল্যবোধ মেনে এই যুদ্ধ-বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি উক্ত দেশগুলিকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম ইসলামিক দেশ’ বলেও চিহ্নিত করেছেন।
কিন্তু শুধু এই ঘোষণাতেই পাকিস্তান থেমে থাকেনি। দিয়েছে সতর্কবার্তাও। তাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, যুদ্ধবিরতি কালে তারা কোনও আক্রমণ করবে না। কিন্তু আফগানিস্তান যদি যেচে পড়ে সীমান্তে কোনও রকম আক্রমণ করে, তবে তৎক্ষণাৎ পাকিস্তান স্থগিতাদেশ তুলে নেবে এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। ড্রোন হামলা বা সন্ত্রাসী আক্রমণ হলেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এখনও এই সাময়িক স্থগিতাদেশের ব্যাপারে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
সোমবার রাতে এর আগে একটি বড় আক্রমণ ঘটে। পাকিস্তানের বিমান কাবুলে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে হামলা চালায়। এটি এই দুই দেশের মধ্যে, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিবানের দাবি, ওই আক্রমণে প্রায় ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন ২০০-রও বেশি মানুষ। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হয়নি।
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। এই জঙ্গিরাই পাকিস্তানে আক্রমণ চালায়। অন্যদিকে আফগানিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মৃতদের বুধবার দুপুরে গণকবর দেওয়া হয়। কাবুলের কাছেই একটি পাহাড়ের ধারে, অনেক মৃতদেহ একসঙ্গে কবর করা হয়। কফিন নিয়ে আসে রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকেরা। কাঠের এই কফিনগুলি পাথুরে মাটিতে কবরে যায় প্রায় ৪০০ জন নির্দোশকে নিয়ে। যুদ্ধের সঙ্গে যাঁদের কোনও যোগাযোগ ছিল না।
আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি এই গণকবরস্থানে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। তিনি নিহতদের নিরীহ বলে অভিহিত করেন। এবং হাসপাতালে আক্রমণকারীদের ‘অপরাধী’ বলে চিহ্নিত করেন। শোক প্রকাশের পাশাপাশি, তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন। তাঁর কথায়, “আমাদের দুর্বল ভাবার ভুল করো না। আমরা দুর্বল নই। এই নির্মম ঘটনার ফল তোমরা ভুগবে।”
তবে তিনি শান্তির কথাও বলেন। তিনি জানান, তাঁদের সরকার যুদ্ধ চায় না। রাজনৈতিক বা বলা ভাল, কূটনৈতিকভাবে এই সমস্যার সমাধান তারা করতে চায়। অনেক মৃতদেহ এখনও শনাক্ত করা যায়নি। আবার অনেককে নিজ নিজ প্রদেশে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার জেরে সঠিক মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন। কারণ আক্রমণ স্থল দুর্গম জায়গায় এবং মৃত ও আহতদের সংখ্যা-তথ্য ভিন্ন ভিন্ন।
উদ্ধারকাজে থাকা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। তাদের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক দেহ ছড়িয়ে ছিল। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে বহু সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে। এক লক্ষের বেশি পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে।
