আজকাল ওয়েবডেস্ক: নাগরিকত্ব আইন শিথিল করেছে কানাডা। এর ফলে কানাডীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের জন্য নাগরিকত্ব দাবি করা এখন আরও সহজ হল। এই পদক্ষেপের ফলে নাগরিকত্বের আবেদনের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নতুন নিয়মাবলি জেরে আগের বিধিনিষেধটি তুলে নেওয়া হয়েছে, যা বংশসূত্রে নাগরিকত্ব প্রাপ্তিকে কেবল কানাডার বাইরে জন্মগ্রহণকারী প্রথম প্রজন্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিল। সংশোধিত এই কাঠামোর অধীনে, কানাডীয় নাগরিকদের সন্তান, নাতি-নাতনি এবং এমনকি পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যরাও এখন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে শর্ত হল, তাদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণ করতে হবে।

২০২৩ সালের একটি আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই বদল করা হয়েছে। ওই রায়ে পূর্ববর্তী আইনটিকে অসাংবিধানিক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এর ফলে আটোয়া কর্তৃপক্ষ নাগরিকত্বের যোগ্যতার পরিধি বাড়াতে এবং নাগরিকত্ব প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে উদ্যোগী হয়।

কানাডার নাগরিকত্ব নীতি সম্পর্কে জানুন
২০২৫-এর ১৫ ডিসেম্বরের পরে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের ক্ষেত্রে, শর্ত হল- ওই শিশুর জন্মের পূর্বে তার কানাডীয় পিতামাতাকে অবশ্যই দেশটিতে অন্তত ১০৯৫ দিন বা তিন বছর বসবাস করতে হবে। এই শর্তটি আরোপের মূল উদ্দেশ্য হল, কানাডার সঙ্গে আবেদনকারীর একটি বাস্তব ও সুদৃঢ় সংযোগ নিশ্চিত করা।

এই পদক্ষেপের প্রভাব ইতিমধ্যেই নজরে পড়ছে। কারণ নাগরিকত্বের আবেদনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবল ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই হাজার হাজার আবেদন জমা পড়েছে, যা আবেদন প্রক্রিয়াকরণের নির্ধারিত সময়সীমার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, বর্তমানে একটি আবেদন প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগছে। তবে আবেদনের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এই প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

কানাডীয় নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে
কানাডীয় নাগরিকত্ব অর্জনের ফলে একজন ব্যক্তি বহুমুখী সুবিধা ভোগ করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে, কানাডায় বসবাস ও কাজ করার অধিকার, শিক্ষার সুযোগ লাভ এবং বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুবিধা। অনেকের কাছেই, বিশ্বব্যাপী বিরাজমান অনিশ্চয়তার এই সময়ে কানাডীয় নাগরিকত্ব একটি কৌশলগত 'বিকল্প সুরক্ষা' হিসেবেও কাজ করে।

কানাডার এই সিদ্ধান্তটি ইউরোপের এমন কিছু দেশের ঠিক বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, যারা বর্তমানে তাদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নিয়মাবলিকে আরও কঠোর করে তুলছে। কানাডার এই পদক্ষেপটি মূলত সেইসব মানুষের প্রতি একটি অধিকতর উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গিরই ইঙ্গিত বহন করে, যাদের সঙ্গে দেশটির ঐতিহাসিক বা বংশগত কোনও সংযোগ রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে যে, এই নীতিগত পরিবর্তনটি বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে উপকৃত করবে, বিশেষ করে সেইসব ব্যক্তিদের, যাদের সঙ্গে কানাডার দূরবর্তী কোনও বংশগত সম্পর্ক রয়েছে। এর মাধ্যমে অটোয়া নিজেকে 'দ্বৈত নাগরিকত্ব' অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম সহজগম্য ও সুবিধাজনক গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।