আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইন্টারনেটের দুনিয়ায় পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা কীভাবে মানুষের বাস্তব জীবন এবং সুস্থ সম্পর্ককে ধ্বংস করে দিতে পারে, তার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে এক তরুণীর যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতায়। পর্ন আসক্ত সঙ্গীর চরম বিকৃত ফ্যান্টাসি ও জোর করে যৌনতার জেরে নিজের ঘরেই তীব্র মানসিক ট্রমা এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। ওই তরুণী জানিয়েছেন, পর্নোগ্রাফির অ-বাস্তব ও কাল্পনিক দৃশ্যগুলো তাঁর সঙ্গী বাস্তব জীবনে ঘরের ভেতর জোর করে তৈরি করতে বাধ্য করছেন।
এর প্রতিবাদ করলেই জুটছে মানসিক নির্যাতন, উপহাস এবং অবহেলা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শারীরিক সম্পর্কের মুহূর্তে নিজের সঙ্গীর কাছে নিজেকে কোনও মানুষ নয়, বরং স্রেফ একটি জড় বস্তু বা খেলনা মনে হচ্ছে তাঁর। থ্রিসাম বা অন্য কোনও বিকৃত চাহিদায় রাজি না হলে তাঁকে "বোরিং" বা প্রাচীনপন্থী বলে মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা এক ধরনের চরম ম্যানিপুলেশন। এই পরিস্থিতির কারণে নিজের বাড়িতে ফিরতেও এখন আতঙ্ক বোধ করছেন ওই ভুক্তভোগী তরুণী।
মনোবিদ ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি কোনও সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয় এবং এখানে লজ্জাবোধ বা অপরাধবোধে ভোগার কোনও কারণ নেই। একজন স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে সম্পর্কের মধ্যে শারীরিক চাহিদার পাশাপাশি ভালোবাসা, সম্মান এবং মানসিক টান প্রত্যাশা করা অত্যন্ত স্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট পরামর্শ, সঙ্গীর মন খারাপ বা রাগের ভয়ে নিজের অনিচ্ছায় সম্মতি দিলে তা আত্মবিশ্বাসকে আরও ধূলিসাৎ করে দেয়, তাই নিজের অসম্মতিতে অটল থাকা এবং নিজের শরীরের ওপর চূড়ান্ত অধিকার বজায় রাখা জরুরি।
এই ধরনের সংকট থেকে বেরোতে হলে কোনও নিরপেক্ষ এবং শান্ত সময়ে সঙ্গীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা প্রয়োজন। কোনও রকম ব্লেম গেম বা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি না করে নিজের মানসিক যন্ত্রণার কথা স্পষ্ট ভাষায় জানানো উচিত। যদি তার পরেও সঙ্গী নিজের ভুল স্বীকার না করে উল্টো রাগ দেখায় বা নিজের বিকৃত চাহিদাকেই বড় করে দেখে, তবে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা দরকার। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত পর্ন আসক্তির কারণে মস্তিষ্কের ডোপামিন নিঃসরণে যে বদল আসে, তার জন্য প্রফেশনাল থেরাপি বা কাউন্সেলিং অত্যন্ত জরুরি। নিজেকে গুটিয়ে না রেখে ভুক্তভোগীদের উচিত বিশ্বস্ত বন্ধু, পরিবার বা থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়া, কারণ নিজের জীবন এবং শরীর অন্য কারও বিকৃত ফ্যান্টাসির খাঁচায় বন্দি করার জন্য নয়।















