আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'জেন জি'-র আন্দলনের পর ক্ষমতার পালাবদল হয় নেপালে। বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বালেন্দ্র শাহ ওরফে বালেন শাহের সরকার। কিন্তু সম্প্রতি সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে উঠেছে। ফের ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দেশের যুবক-যুবতীরা। আর তার জেরেই বুধবার নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং।
সরকার বদলের পর গত ২৭ মার্চ গুরুং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সম্প্রতি অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের ঘটনা সামনে আসে। তাই তদন্তের স্বার্থেই নিজের পদ থেকে অব্যাহতি দিলেন গুরুং। বুধবার তিনি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন, "আমার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। তাই তদন্তের খাতিরেই আমি নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। আমিও চাই, সুষ্ঠু ভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া চলুক এবং সত্যিটা সামনে আসুক।" তিনি জানান, বুধবার থেকেই কার্যকর হবে সেই সিদ্ধান্ত।
গুরুং তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, "পদের থেকেও নৈতিকতার গুরুত্ব আমার কাছে বেশি। জনগণের আস্থা অর্জন করার কোনও বিকল্প নেই। দেশজুড়ে 'জেন জি' যে সুশাসন এবং স্বচ্ছতার দাবি করছে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে, সেটাই স্বাভাবিক।" 'জেন জি'-র প্রতিবাদকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, " যে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে ৪৬ জনের আত্মত্যাগ পর সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে নৈতিকতার কোনও বিকল্প থাকতে পারে না।"
উল্লেখ্য, বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন সরকারে এই দ্বিতীয়বার কোনও মন্ত্রী ক্ষমতা থেকে সরলেন। যদিও এর আগে গত ৯ এপ্রিল শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী দীপক কুমার শাহকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। আচরণবিধি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশের পরই এ নিয়ে পদক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, দেশজুড়ে 'জ়েন জি' আন্দোলনের পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওলি সরকারের পতন হয়। কিছু দিন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকার পর ৫ মার্চ নতুন সরকার গঠন হয়। নেপালের প্রধানমন্ত্রী পদে ক্ষমতা গ্রহণ করেন বালেন শাহ। ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই এ বার তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বালেন। তাঁর সরকারের কিছু নীতি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১০০ টাকার বেশি মূল্যের যে কোনও ভারতীয় পণ্যের উপরে বাধ্যতামূলক শুল্ক চাপানো, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর মতো সিদ্ধান্ত। রাস্তায় রাস্তায় শুরু হওয়া সেই বিক্ষোভ ছড়িয়েছে দেশ জুড়ে। এমনকি নেপালের মূল প্রশাসনিক ভবন ‘সিংহ দুয়ার’-এর সামনেও বিক্ষোভ দেখানো হয়।















