আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়াতে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে আবারও হামলার মুখে পড়েছে নাতাঞ্জের ইউরেনিয়াম কেন্দ্র। শনিবার ইরান সরকার এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় কোনও তেজস্ক্রিয় পদার্থের লিকেজ ঘটেনি এবং আশপাশের জনবসতি আপাতত নিরাপদ রয়েছে। তবে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ এটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ইতিমধ্যেই ২২তম দিনে প্রবেশ করেছে।


এই সংঘাতের সূত্রপাত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। তারপর থেকেই পাল্টা আক্রমণ, উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন—সব মিলিয়ে গোটা গালফ অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠেছে।


নাতাঞ্জ একমাত্র লক্ষ্য নয়। এর আগেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। এই আঘাতগুলি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বহুদিনের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইজরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর ইরানও পাল্টা আঘাত হানে। নাতাঞ্জ কেন্দ্রটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত এই স্থানটি এমনভাবে তৈরি, যাতে আকাশপথে হামলার মধ্যেও তারা কাজ চালিয়ে যেতে পারে। এখানে হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ রয়েছে, যা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয়। এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে, তেমনি অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহারযোগ্য—ফলে আন্তর্জাতিক মহলে এই কেন্দ্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারি চলছে।


এই নজরদারির দায়িত্বে ছিল ইন্টারন্যাশনাল অটোমিক এনার্জি এজেন্সি, যারা নিয়মিতভাবে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে পরিদর্শন করত। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার পর সেই পরিদর্শন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।


অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করেছিল, যার। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের ওপর নজরদারি জোরদার করে এবং প্রয়োজনে ভূগর্ভস্থ উপাদান উদ্ধারের পরিকল্পনাও করে। ট্রাম্প সাম্প্রতিক হামলার পর দাবি করেছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করা হয়েছে এবং ইরানকে শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

&t=4s
সব মিলিয়ে, নাতাঞ্জে নতুন হামলা মধ্য এশিয়ার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পারমাণবিক কেন্দ্র ও জ্বালানি কাঠামোকে ঘিরে এই সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তাহলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বিশ্বের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।