আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মানুষকে আবার চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্যে নাসার নতুন মিশন যখন প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে, তখন এক অদৃশ্য বিপদের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে সংস্থাটি—সূর্যের কার্যকলাপ। তাই আর্টেমিস উৎক্ষেপণের আগে সূর্যকে ২৪ ঘণ্টা নজরে রাখা হচ্ছে।


এই “অদৃশ্য বিপদ” আসলে সৌর বিকিরণ বা স্পেস ওয়েদার। সূর্য থেকে নির্গত শক্তিশালী বিকিরণ, যেমন সোলার ফ্লেয়ার বা করোনাল মাস ইজেকশন, মহাকাশে থাকা মহাকাশচারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল আমাদের এই বিকিরণ থেকে রক্ষা করে, কিন্তু মহাকাশে সেই সুরক্ষা নেই।


বিশেষ করে চাঁদের পথে বা চাঁদের কক্ষপথে থাকা মহাকাশচারীরা সরাসরি এই বিকিরণের মুখে পড়তে পারেন। একটি শক্তিশালী সোলার স্টর্ম মুহূর্তের মধ্যে তাদের শরীরে উচ্চমাত্রার রেডিয়েশন পৌঁছে দিতে পারে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানো থেকে শুরু করে তাৎক্ষণিক অসুস্থতা পর্যন্ত ঘটাতে পারে।


এই কারণেই নাসা সূর্যের প্রতিটি গতিবিধি নজরে রাখছে। সোলার অবজারভেটরি স্যাটেলাইট এবং উন্নত টেলিস্কোপের মাধ্যমে সূর্যের পৃষ্ঠে কী ঘটছে, কোথায় বিস্ফোরণ হতে পারে—সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আগাম সতর্কতা দিতে পারেন, যাতে প্রয়োজনে উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেওয়া যায় বা মহাকাশচারীদের নিরাপদ অবস্থানে রাখা যায়।


আর্টেমিস মিশনের গুরুত্ব এখানেই যে, এটি শুধু একটি সংক্ষিপ্ত ভ্রমণ নয়। এই কর্মসূচির লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্র অভিযানের ভিত্তি তৈরি করা। ফলে মহাকাশচারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় মহাকাশে কাটাবেন, যা তাদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।


সূর্যের কার্যকলাপ বর্তমানে একটি সক্রিয় পর্যায়ে রয়েছে, যাকে “সোলার ম্যাক্সিমাম” বলা হয়। এই সময় সূর্যে বিস্ফোরণ ও বিকিরণ অনেক বেশি হয়। ফলে এই সময়ে মহাকাশ অভিযান পরিচালনা করা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।


তবে শুধু পর্যবেক্ষণই নয়, নাসা মহাকাশচারীদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও নিচ্ছে।স্পেসক্রাফটে রেডিয়েশন শিল্ডিং বাড়ানো হচ্ছে, এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বিশেষ সুরক্ষিত অংশ রাখা হচ্ছে, যেখানে বিকিরণের প্রভাব কম পড়বে।

 

&t=4s
সব মিলিয়ে, সূর্যকে ২৪ ঘণ্টা নজরে রাখার সিদ্ধান্ত কোনও অতিরঞ্জন নয়, বরং মহাকাশচারীদের জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আর্টেমিস মিশন মানবজাতির মহাকাশ অভিযানের এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে, আর সেই পথকে নিরাপদ করতে সূর্যের মতো অদৃশ্য শক্তিকেও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।