আজকাল ওয়েবডেস্ক: কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা দিন কি তবে ফুরিয়ে এল? আগামী দেড় বছরের মধ্যে কি অফিস-কাছারির চেনা ছবিটা আমূল বদলে যেতে চলেছে? মাইক্রোসফটের এআই (AI) প্রধান মুস্তাফা সুলেমানের সাম্প্রতিক এক ভবিষ্যৎবাণীতে এই মুহূর্তে কর্পোরেট দুনিয়ায় ত্রাহি ত্রাহি রব। তাঁর দাবি, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই ‘হোয়াইট কলার’ বা ডিজিটাল নির্ভর অধিকাংশ কাজ পুরোপুরি দখল করে নেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
সম্প্রতি ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুলেমান সাফ জানিয়েছেন, আইনজীবী, হিসাবরক্ষক, প্রজেক্ট ম্যানেজার আরও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের কাজের বড় অংশই খুব দ্রুত এআই-এর কব্জায় চলে আসবে। সুলেমানের কথায়, “যাঁরা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন, আগামী দেড় বছরের মধ্যে তাঁদের কাজের সিংহভাগই স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড হয়ে যাবে।” অর্থাৎ, নিছক কোডিং বা সফটওয়্যার নয়, তথাকথিত ‘বুদ্ধিদীপ্ত’ পেশার দোরগোড়ায় এখন বড়সড় বিপদের হাতছানি।
মাইক্রোসফট এখন এমন এক উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) তৈরির পথে এগোচ্ছে, যা এক জন দক্ষ পেশাদারের মতোই সূক্ষ্ম কাজ করতে সক্ষম হবে। রিপোর্ট তৈরি, নথির খসড়া প্রস্তুত, তথ্য যাচাই থেকে শুরু করে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কাজগুলি যখন যন্ত্রই সেরে ফেলবে, তখন রক্ত-মাংসের মানুষের প্রয়োজন কতটা থাকবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লদ কোওয়ার্ক’-এর মতো মডেলগুলি ইতিমধ্যেই বাজার কাঁপাতে শুরু করেছে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল ভারতের মতো দেশগুলির অর্থনীতিতে এর প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগের মেঘ ঘনাচ্ছে।
সুলেমান অবশ্য আশার বাণীও শুনিয়েছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে ব্লগ লেখা বা পডকাস্ট তৈরির মতোই সহজ হয়ে যাবে নিজস্ব এআই মডেল তৈরি করা। ছোট ব্যবসা থেকে শুরু করে হাসপাতাল বা বিশ্ববিদ্যালয়- প্রত্যেকের কাছেই থাকবে নিজস্ব কাস্টমাইজড এআই। তবে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে এআই এজেন্টরা যেভাবে জটিল কাজ সামলাবে, তাতে মানুষের ভূমিকা বদলে গিয়ে নিছক ‘তদারকি’র স্তরে নেমে আসতে পারে।
সাক্ষাৎকারে সুলেমান আরও একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওপেনএআই-এর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মাইক্রোসফট এখন ‘এআই স্বনির্ভরতা’র পথে হাঁটছে। শোনা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যেই বাজারে আসতে পারে মাইক্রোসফটের নিজস্ব অত্যাধুনিক এআই মডেল।
ইতিহাস বলছে, প্রযুক্তি বদলে গেলে পুরনো কাজ যায় ঠিকই, কিন্তু নতুন কাজের পথও খোলে। তবে বদলের গতি যদি এতটাই তীব্র হয়, তবে মধ্যবিত্ত চাকুরিজীবীরা সেই ধাক্কা কতটা সামলাতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সুলেমানের বার্তা স্পষ্ট- এআই আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়, বরং খুব নিকট ভবিষ্যতেই কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা বদলে দিতে চলেছে।
