আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন বিমানবাহিনীর ‘E-3 AWACS’ বিশেষ বিমান ধ্বংস করেছে ইরান। এই ধরনের মাত্র ১৬টি বিমান আমেরিকার কাছে ছিল। এই বিমান উন্নত রাডার ব্যবহার করে আগাম সতর্কতা প্রদান এবং আকাশ নিয়ন্ত্রণের কাজ করত। সংবাদ মাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, তথ্যটি মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
গত শুক্রবার সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। ওই সময় এই ‘E-3 AWACS’ বিমানকে নিশানা করা হয়। হামলায় আমেরিকার ১২ জন সেনাও আহত হন। এছাড়া কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমানও ধ্বংস হয়েছে।
এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন জানিয়েছে, প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে ‘E-3 AWACS’ বিমানটির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী এটি মেরামত অযোগ্য হতে পারে। বিমানটি প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল। হামলার আগে ঘাঁটিতে ছয়টি ই-৩ বিমান ছিল।
‘E-3 AWACS’ বিমানগুলো ১৯৭০-এর দশক থেকে আমেরিকার আকাশে কমান্ড ও কন্ট্রোল, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এগুলো ডেজার্ট স্টর্ম, কোসোভো যুদ্ধ, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ এবং আইএস বিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ই-৩ বিমানগুলো বয়সে পুরনো এবং কিছু প্রতিদ্বন্দ্বীর সামর্থ্যের তুলনায় পিছিয়ে। বিমানবাহিনীর বর্তমান ফ্লিট মাত্র ১৬টি, এবং ২০২৪ সালে এর কার্যক্ষমতার হার ছিল মাত্র ৫৬ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের বিরল বিমান হারানো যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে। সাবেক এফ-১৬ পাইলট হিদার পেনি বলেন, এই ‘E-3 AWACS’ বিমানগুলো ব্যাটলস্পেসে সমন্বয়, টার্গেটিং এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অপরিহার্য। এর ক্ষতি সামগ্রিক বাহিনীর কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, এই বিমান হারানো হলে ফ্লিটের বাকি বিমানগুলোতে চাপ বেড়ে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। ‘E-3 AWACS’-এর স্থলাভিষিক্ত ই-৭ ওয়েজটেইল বিমান প্রয়োজন হলেও এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। ‘E-7 AWACS’ বিমান প্রয়োজনীয়, কারণ বর্তমান ফ্লিট এবং ব্যাটলম্যানেজারদের ওপর চাপ অনেক বেড়ে গিয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করছে অপারেশন এপিক ফিউরি-তে ৩০০-এর বেশি সেনা আহত এবং ১৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনা। হামলায় প্রায় ২০টি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অনলাইনে প্রকাশিত ফুটেজে ‘E-3 AWACS’ সেনট্রি মডেলের বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গিয়েছে। কয়েকজন আরব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একাধিক রিফুয়েলিং বিমানের পাশাপাশি এই বিশেষ বিমানও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই বিমান কয়েকশ কিলোমিটার দূরের যুদ্ধবিমান ও মিসাইল শনাক্ত করতে পারে এবং আকাশ থেকে সেনা কমান্ডারদের তাৎক্ষণিক যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম।
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ধ্বংসের আগে আমেরিকার কাছে এই মডেলের মাত্র ১৬টি বিমান ছিল। কয়েক দশক আগে প্রায় ৩০টির বেশি বিমান ছিল।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ‘E-3 AWACS’ সেনট্রি ফ্লিটের বিমান সহজে প্রতিস্থাপন করা যায় না। রিপ্লেস করতে হলে ‘E-7 AWACS’ওয়েজটেইল বিমান আনা প্রয়োজন, যার একটির দাম প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার।














