আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কৌশলগত স্বার্থে পাকিস্তানকে ব্যবহার করে পরে “টয়লেট পেপারের চেয়েও খারাপভাবে” ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে আমেরিকা। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে বিরাট সমালোচনা। 


আসিফ বলেন, ১৯৯৯ সালের পর বিশেষ করে আফগানিস্তান প্রসঙ্গে আবারও ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়েছে। তাঁর দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার আশায় নেওয়া সেই পদক্ষেপ ছিল এক গুরুতর ভুল হিসাব, যার মূল্য আজও দেশকে চোকাতে হচ্ছে।


দশকের পর দশক ধরে প্রচলিত সরকারি বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, আফগান সংঘাতে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ধর্মীয় দায়িত্বের কারণে ছিল—এই দাবি সঠিক নয়। তাঁর কথায়, ‘জিহাদ’-এর নামে পাকিস্তানিদের সংঘাতে পাঠানো হয়েছিল, যা ছিল বিভ্রান্তিকর ও ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত। এমনকি যুদ্ধকে ন্যায্যতা দিতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেও বদলে ফেলা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই আদর্শগত পরিবর্তনের প্রভাব এখনও সমাজে রয়ে গেছে বলে স্বীকার করেন আসিফ।


প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, ১৯৮০-র দশকে সোভিয়েতবিরোধী আফগান যুদ্ধে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ মূলত আমেরিকার রাজনৈতিক স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত ছিল, ধর্মীয় কোনও অপরিহার্যতার কারণে নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তখনকার পরিস্থিতি কখনও ‘জিহাদ’ ঘোষণার মতো ছিল না। অন্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ফলেই পাকিস্তানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা, উগ্রপন্থা এবং সামাজিক ক্ষয় সৃষ্টি হয়েছে।


২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন আসিফ। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সামরিক শাসক জিয়াউল হক ও পারভেজ মোশাররফের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানকে বহিরাগত সংঘাতে জড়িয়ে ফেলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করলেও হিংসা, জঙ্গিবাদ ও অর্থনৈতিক চাপে জর্জরিত অবস্থায় থেকে যায় পাকিস্তান।


আসিফ বলেন, তালিবানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তান আমেরিকার পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটন নিজেদের স্বার্থে সরে যায়, আর তার পরিণতি একাই বহন করতে হয় ইসলামাবাদকে। তাঁর কথায়, “আমরা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি, তার পূরণ কখনও সম্ভব নয়।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন, বারবার বৈদেশিক শক্তির রাজনৈতিক খেলায় পা দেওয়ার ফলে পাকিস্তান কার্যত অন্যের স্বার্থনির্ভর সংঘাতে একটি গুটিতে পরিণত হয়েছে। সেই ভুল সিদ্ধান্তগুলো এখন আর ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির অতীত সিদ্ধান্তগুলিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।