আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার সকাল থেকে তোলপাড় গোটা ইরান। কারণ? এদিন সকালেই ইজরায়েল হুঁশিয়ারি দিল, আগামী ১২ ঘণ্টায় গোটা ইরানেই যেন সকলে রেলপথ ও রেলযাত্রা এড়িয়ে যান। যদি বাঁচার ইচ্ছে থাকে, তাহলে আগামী ১২ ঘণ্টায় কেউ যেন ট্রেনে না চড়েন। ট্রেনে উঠলেই ভয়ঙ্কর পরিণতি হবে। 

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী পার্সি ভাষায় এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে। সেই পোস্টটি ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানেই লেখা রয়েছে, আজ, মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ইরানে ট্রেনে না চড়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা। 

ইরানের কোনও নির্দিষ্ট এলাকার নাম উল্লেখ করেনি ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী। অর্থাৎ গোটা ইরানের রেলপথেই বিপদ লুকিয়ে রয়েছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক্স হ্যান্ডেলের ওই পোস্টে ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী লিখেছে, "নিজের নিরাপত্তার খাতিরে, আগামী ১২ ঘণ্টায় ট্রেনে উঠবেন না। আপনাদের অনুরোধ করছি। ট্রেনে চড়লে, রেলপথের আশেপাশে থাকলেও, আপনাদের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।" 

এক রাতের মধ্যে ইরানকে শেষ করে দেব। ইতিমধ্যেই ইরানকে কড়া হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তৈল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য তেহরানকে ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সময়ের মধ্যে যদি ইরান সমঝোতায় না আসে তাহলে মারাত্মক পরিণতি হবে। এমনটাই জানিয়েছেন ট্রাম্প। 

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার অবধি ইরানকে সময় দিয়েছেন ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য। কিন্তু ইরান সে বিষয়ে এখনও কোনও উত্তর দেয়নি। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের নেতারা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। কিন্তু আশানুরূপ কিছু এখনও হয়নি। 

ইরান আবার সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এরপরেই এল ট্রাম্পের এই হুমকি। তিনি বলেছেন, ‘‌এক রাতেই দেশটাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারি। সেই রাতটা আগামীকালই আসতে পারে।’‌ ট্রাম্প আরও বলেছেন, সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘‌ইরানের সমস্ত সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

এক সাক্ষাৎকারে এক উচ্চপদস্থ ইরানি আধিকারিক সরাসরি ওয়াশিংটনকে তোপ দেগেছেন। তাঁর দাবি, আমেরিকা ‘‌স্থায়ী’‌ শান্তিতে আগ্রহী নয়। তবে পাকিস্তান যে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তা স্বীকার করেছেন তিনি। তেহরান এখন সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে। এরপরেই এল ট্রাম্পের এই হুমকি।