আজকাল ওয়েবডেস্ক: উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক হামলা প্রতিহত করতে ইরান কী সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনেছে?
সাইবার বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে 'দ্য গার্ডিয়ান' জানিয়েছে, ইরানের বৈদেশিক প্রভাব বিস্তারের কার্যক্রম বর্তমানে পুরোদমে চলছে। এটা একটা "অপ্রতিসম" প্রচারের অংশ, যার মূল উদ্দেশ্য হল ইরানের সামরিক পাল্টা হামলার পরিপূরক হিসেবে কাজ করা এবং আমেরিকা-ইজরায়েলের ওপর এমন নৈতিক চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা তাদের যুদ্ধপ্রচেষ্টা কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়।
এই প্রচারের অংশ হিসেবে, 'এক্স', 'ইনস্টাগ্রাম' এবং 'ব্লুস্কাই'-এর মতো সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো এমন সব পোস্টে ছয়লাপ হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যার লক্ষ্য হল আমেরিকা, এমনকী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যেও - এই যুদ্ধের প্রতি যে জন-অসন্তোষ রয়েছে, সেটিকে কাজে লাগানো।
'দ্য গার্ডিয়ান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কিছু ভিডিও ফুটেজে এমন সব দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে - মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন'-এর ওপর সফল হামলা চালানো হয়েছে, তেল আবিবের বাড়িগুলোতে বোমাবর্ষণের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এবং ইরানের পাল্টা হামলার ভয়ে ইজরায়েলি সেনারা আতঙ্কে কাঁদছে।
ঠিক এমন এক সময়ে এই ঘটনাগুলো ঘটছে, যখন ইরান সরকার দেশে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এবং 'স্টারলিঙ্ক'-এর মতো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ইরানের এই প্রচারের সমালোচনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এআই-কে একটি "বিভ্রান্তি ছড়ানোর অস্ত্র" হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তোপ দেগেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ।
এদিকে, সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশে বসবাসরত ইরানি নাগরিকদেরও ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যেন তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে কিংবা আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধপ্রচেষ্টার সমর্থনে অনলাইনে কোনও বার্তা বা পোস্ট প্রকাশ না করেন, এই মর্মে তাঁদের সতর্ক করা হচ্ছে। 'দ্য গার্ডিয়ান' জানিয়েছে, বিদেশে বসবাসরত ইরানিরা ফোন কল বা অনলাইন বার্তার মাধ্যমে হুমকি পাচ্ছেন। সেই হুমকিতে বলা হচ্ছে, যদি তারা অনলাইনে পোস্ট করা থেকে বিরত না হন, তবে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে কিংবা ইরানে অবস্থানরত তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর আঘাত হানা হবে।
সাউথ ক্যারোলিনায় অবস্থিত ক্লেমসন ইউনিভার্সিটির 'মিডিয়া ফরেনসিকস হাব'-এর সহ-পরিচালক এবং ইরানের যুদ্ধকৌশল বিষয়ক একটি গবেষণাপত্রের রচয়িতা ড্যারেন লিনভিল 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর কাছে বলেছেন, "এটি নিঃসন্দেহে একটি অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অত্যন্ত চমকপ্রদ; এবং এর প্রয়োগের মাত্রা ও ধরন এতটাই অভিনব যে, আমার মনে হয় না এর আগে কেউ কখনও এত ব্যাপক পরিসরে বা এমন কৌশলে এর ব্যবহার দেখেছে।"
লিনভিল আরও বলেন, "ইরান তাদের হাতে থাকা প্রতিটি সুবিধাকেই কাজে লাগাচ্ছে। তারা গত প্রায় ৫০ বছর ধরে এই সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছিল; আর বর্তমানের এই কৌশলটি ছিল তাদের সেই দীর্ঘ প্রস্তুতিরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা সংবাদ মাধ্যমের সামগ্রিক পরিবেশ ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে অত্যন্ত ভালভাবেই অবগত।" তাঁর কথায়, “আইআরজিসি (ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী) পরিচালিত এমন কিছু অ্যাকাউন্ট ছিল, যেগুলো স্কটিশ ও আইরিশ বলে মনে হত - এত দিন সেগুলোতে স্কটিশ ও আইরিশ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা চলত, আর যুদ্ধে শুরু হতেই সেগুলোর পুরো মনোযোগ পড়ল ইরানের যুদ্ধের ওপর। শুরু হল ইরানের হয়ে নির্লজ্জ প্রচার।”
