আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই নিহত হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিষদ ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মতৈক্যে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করার আগে এখনও কিছু প্রক্রিয়াগত বাধা রয়ে গেছে।
রবিবার এক বিবৃতিতে পরিষদের সদস্য জানান, দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেওয়ার বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে বেশিরভাগের মত এক হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে “কিছু বাধা” এখনও সমাধান করতে হবে।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতাকে নির্বাচনের দায়িত্ব ৮৮ সদস্যের এই ধর্মীয় পরিষদের ওপরই থাকে। এর আগেও পরিষদের এক প্রবীণ সদস্য জানিয়েছিলেন, নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য খুব দ্রুত বৈঠক ডাকা হবে।
তবে সমস্যা তৈরি হয়েছে সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে। কিছু সদস্য মনে করছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য অবশ্যই সরাসরি বৈঠক করে ভোটাভুটি করা উচিত। অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে অনেকেই মনে করছেন যে ভার্চুয়াল বা বিকল্প উপায়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা উচিত।
পরিষদের আরেক সদস্য বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ বৈঠক করা কঠিন। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “এটি একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। এই অবস্থায় পুরো পরিষদের বৈঠক করা বাস্তবসম্মত নয়।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই পরিষদের ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করলে তা ইরানের শত্রুদেরই লাভবান করবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের ফলে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে বড় ধাক্কা লেগেছে। ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় বহু কর্তা ও সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। সেই হামলাতেই নিহত হন দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই।
এদিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে তার ছেলে মোজতবা খামেনেইর নাম। ৫৬ বছর বয়সি এই ধর্মীয় নেতা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। বিশেষ করে সেখানকার প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনও সরকারি পদে ছিলেন না, তবুও তার বাবার দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কারণে ইরানের ক্ষমতার অন্দরমহলে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী বলে মনে করা হয়।
তার নাম আগে ২০২২ সালের দেশজুড়ে বিক্ষোভের সময়ও আলোচনায় আসে। তখন অনেক বিক্ষোভকারী তাকে ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগে সমালোচনা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, আলি খামেনেই ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। এর আগে তিনি প্রায় আট বছর দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তিনি দীর্ঘতম সময় ক্ষমতায় থাকা নেতাদের একজন ছিলেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন নিয়ে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। যদিও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে মতৈক্য তৈরি হয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কবে হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
