আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান ও আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ এবার ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে। ইরান এই অঞ্চলে দু’টি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করেছে। যার ফলে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এই যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধির ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে।
মার্কিন কর্তাদের উদ্ধৃত করে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত আমেরিকা এবং ব্রিটেনের যৌথ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দু’টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দু’টি ক্ষেপণাস্ত্রের একটিও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই অকেজো হয়ে পড়ে এবং দ্বিতীয়টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপিত একটি প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রতিরোধ করা হয়েছে।
ভারতের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণীশ তিওয়ারি এক্স-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, “যদি এই প্রতিবেদনগুলো সত্য হয় যে, ইরান ভারত মহাসাগরের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে আঘাত হানার চেষ্টা চালিয়েছিল— তবে এর অর্থ হল ইরান এই যুদ্ধের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে এবং দক্ষিণ দিকে আঘাত হানার পাশাপাশি পশ্চিমি বিশ্বের প্রতি একটি অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।”
আশ্চর্যজনকভাবে, এই ঘাঁটিটি ইরানের ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এই পাল্লা বা দূরত্বে আক্রমণে তেহরানের সক্ষমতা সম্পর্কে আগে যে ধারণা ছিল, তা পাল্টে যেতে শুরু করেছে। এর অর্থ, ইরান এখন ইউরোপের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিগুলিকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে সক্ষম হবে। পেন্টাগন অবশ্য এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।
পেন্টাগন আগেই জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল ইরানের নৌবাহিনীকে নির্মূল করা। আফগানিস্তান ও ইরাকে আমেরিকার অভিযানের একটি প্রধান ঘাঁটি হিসেবেও দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়েছে। এটি ব্রিটেনের এমন দুটি স্থাপনার একটি, যা আমেরিকা বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের কাজে ব্যবহার করছে।
ব্রিটেন চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে ফিরিয়ে দিতে সম্মত হলেও, এই দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত ঘাঁটির দখল নিজেদের কাছেই রেখে দিয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হস্তান্তর প্রক্রিয়ার প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছেন।
এর কয়েক সপ্তাহ আগেই, এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারত মহাসাগরে প্রথম সামরিক সংঘর্ষ হয়। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে নিক্ষিপ্ত টর্পেডোর আঘাতে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস দেনা’ (IRIS Dena) ডুবে যায়। এই হামলায় ৮৫ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজটি ছিল একটি ‘ফ্রিগেট’ শ্রেণির রণতরী। জাহাজটি ভারতে আয়োজিত বহুপাক্ষিক নৌ-মহড়া ‘মিলান ২০২৬’-এ অংশ নেওয়ার পর ইরানে ফিরে যাচ্ছিল।
