আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত না করলে ইরামকে ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পাল্টা জবাবে থেহরান জানিয়ে দিল, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি অবরুদ্ধ নয়। বিদেশি জাহাজগুলো এখনও এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারে তবে, ইজরায়েল, আমেরিকা এবং তাদের 'বন্ধু' রাষ্ট্রগুলোর জন্য ওই সমুদ্রপথ বন্ধ।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) কাছে ইরানের প্রতিনিধি আলি মুসাভি বলেছেন, "বিদেশি জাহাজগুলো এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারে। তবে শর্ত হল, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে তাদের তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে হবে।"
ব্রিটেনে নিযুক্ত ইরানের দূত হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় মুসাভি জোর দিয়ে বলেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এ ধরনের সমন্বয় অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের পাশাপাশি ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি, এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইরান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
‘শত্রুদের জন্য বন্ধ’
মুসাভি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। তিনি বলেন, "এটা কেবল ইরানের শত্রুদের জন্যই বন্ধ"। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে তিনি আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতকেই দায়ী করেন।
ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার হুঁশিয়ারি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের উদ্দেস্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত না করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যদি এই জলপথে চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক না করা হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে "আঘাত হানবে এবং সেগুলোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে" - আর এই হামলার সূচনা হবে ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দিয়েই।
তেলের দাম ও চাপ
তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক আঙিনায় ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি মূলত হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কার্যকর অবরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশই এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সংঘাত শুরুর পর থেকে জ্বালানি ঘাঁটি ও জাহাজগুলোর ওপর বারবার হামলার কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গিয়েছে। ইরান এর আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল কিংবা তাদের মিত্রদের উদ্দেশ্যে পাঠানো "এক লিটার তেলও" তারা এই পথ দিয়ে যেতে দেবে না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান সম্ভবত এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত এই প্রণালীটি বন্ধ রাখতে পারে।
কঠোর হুঁশিয়ারিগুলো সত্ত্বেও, ইরান তাদের বার্তার মাধ্যমে কিছুটা মিশ্র সংকেত দিল। গত সপ্তাহে রাষ্ট্রসংঘের ইরানিয় রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা তেহরানের নেই। তাঁর এই মন্তব্য ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের বক্তব্যের তুলনায় কিছুটা নমনীয় মনে হয়েছে। খামেনেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই জলপথটিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
রাষ্ট্রসংঘে দেওয়া বক্তব্যে ইরাভানি আবারও বলেছেন, ইরান এই নৌপথটি অবরোধ করবে না, তবে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।
