আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রতিবেশীদের সঙ্গে শত্রুতা নেই। আর হামলা করবে না ইরান। এমনটাই গতকাল জানিয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই দুবাই, কুয়েতে একের পর এক হামলা। 

 

গতকাল দুবাই বিমানবন্দরের পর আজ জ্বলছে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। রবিবার ভোরে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আবদুলআজিজ আল-আতওয়ান জানিয়েছেন, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক লক্ষ্য করেই হামলা করা হয়েছে। 

 

তিনি আরও জানিয়েছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত করেছে ইরান। শনিবার ভোরেও কুয়েতের আকাশপথে ইরানের ছোড়া সাতটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। সামরিক বাহিনী জানায়, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয়। ধ্বংসাবশেষ পড়ে কিছু সম্পদের ক্ষতি হলেও অন্য কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। 

 

গতকাল দুবাই বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছিল। আছড়ে পড়ে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র। তড়িঘড়ি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বন্ধ হয় বিমান পরিষেবা।‌ একাধিক বিমান সংস্থা বিমান উড়ান ও অবতরণ বাতিল ঘোষণা করা হয়। যার জেরে আবারও ভোগান্তিতে কয়েক হাজার যাত্রী। 

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপরই যাত্রীদের এবং ক্রু মেম্বারদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমস্ত বিমানের উড়ান ও অবতরণ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। অনির্দিষ্টকালের জন্য দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব বিমান চলাচল বন্ধের ঘোষণা করে আমিরশাহির বিমান সংস্থা এমিরেটস। যদিও এর খানিকক্ষণ পরেই বিমান পরিষেবা সাময়িকভাবে শুরু হয়। 

 

আমিরশাহী প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বায়ুসেনা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। গোটা এলাকায় আঁটসাঁট নিরাপত্তা রয়েছে। ইরানের ছোড়া ১৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১২১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। একটি মিসাইল সমুদ্রে আছড়েপড়েছে। অন্যদিকে ১২১টি ড্রোনের মধ্যে ১১৯টিকে ধ্বংস করেছেন সেনা জওয়ানরা। 

 

গতকাল আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান যুদ্ধের আবহে প্রথমবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। তাঁর কথায়, এই সংঘাতের আবহে সঙ্কট কাটিয়ে শীঘ্রই আরও শক্তিশালী হয়ে তাঁরা ফিরে আসবেন। যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সর্বক্ষণ প্রস্তুত রয়েছে। 

 

প্রসঙ্গত, গতকাল প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। একটি শর্তে আর আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। 

 

এদিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিলেন, উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলির সঙ্গে ইরানের শত্রুতা নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় আর মদত না দিলে, কোনও প্রতিবেশী দেশেই ইরান হামলা করবে না। 

 

এর পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজ়েশকিয়ান। গতকাল শুক্রবার ডোনাল ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, 'ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হবে, কোনও কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার আগেই। যদি একজন সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচিত হন, তবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও এবং অন্যান্য দেশগুলি মিলিত হয়ে ইরানকে ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। ইরানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে এবং দেশটিকে আবার শক্তিশালী করতে একযোগে কাজ করা হবে।' 

 

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, 'এটা ট্রাম্পের একটা স্বপ্ন এবং এই স্বপ্ন নিয়েই তাঁকে সমাধিস্থ হতে হবে।' অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের কাছে এখনই মাথা নত করবে না ইরান। 

 

গত শনিবার সকালে ইরানের তেহরানে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একযোগে হামলা চালায়। এই হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের প্রাক্তন শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পরেই ইরানে প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের সেই কাউন্সিল দেশ চালাচ্ছে। 

 

এই হামলার পরেই ইরানের তরফে প্রতিবেশী দেশগুলিতে পাল্টা হামলা করা হয়। বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটি আক্রমণ করছিল ইরান। যা ঘিরে সমালোচনার মুখেও পড়ে ইরান।‌ এবার ইরানের প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়ে দিলেন, সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে আর কোনও প্রতিবেশী দেশে হামলা করবে না ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনও দেশ থেকে ইরানের উপর হামলা না হলে, তারাও আর হামলা করবে না।