আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের গালিবাফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ এনে জানিয়েছেন, পরপর হুমকি ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে ক্রমশ দুর্বল করে দিচ্ছে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, চাপের মুখে তেহরান কোনও আলোচনায় বসবে না। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্সে একটি পোস্ট করে করে গালিবাফ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাকে ‘আত্মসমর্পণের টেবিলে’ পরিণত করতে চাইছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ইরান ‘যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশল’ প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, গালিবাফ এই মন্তব্য করেছেন ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শেষের ঠিক আগে।
পিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও অগ্রগতি না হলে ‘বড় ধরনের বোমা হামলা শুরু হবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, আলোচনায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যদিও উভয় পক্ষই আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছিল। তবুও তেহরান শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল যেকোনও পরিস্থিতিতে আলোচনায় অংশ নেবে।
কিন্তু আলোচনায় কাজ না হলে বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রসঙ্গত, এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা নিয়ে।
সাময়িক যুদ্ধবিরতি সরাসরি সংঘর্ষ থামালেও ঠান্ডা লড়াই এখনও জারি রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার ফলে তেহরান ইসলামাবাদে বৈঠকে অংশ নাও নিতে পারে।
প্রসঙ্গত, ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ ইসলামাবাদ পৌঁছায় মার্কিন প্রতিনিধি দল। পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত নূর খান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ছয়টি সামরিক ও সরকারি উড়োজাহাজ অবতরণ করেছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে মঙ্গলবারেই। তার আগে সোমবারেই দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকে অংশ নিতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধি দল। তবে এই বৈঠক আদৌ হবে কিনা, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।
কারণ, এখনও ইরানের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কোনও ইতিবাচক মন্তব্য করেননি। সোমবার সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেন, ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে তিনি রাজি।
এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে এদিন ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার।
আশঙ্কা উড়িয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘আমাদের মধ্যে আলোচনা করার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি, এবার আর কেউ কোনো খেলা খেলবেন না।’ ট্রাম্প এও জানিয়েছেন, ‘আমার আলোচনায় বসতে কোনও আপত্তি নেই। তারা যদি দেখা করতে চান, আমাদের যোগ্য প্রতিনিধি রয়েছেন।’
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার ‘শান্তি আলোচনা’ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সে দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি’ বা ‘ইরনা’ এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে যেসব খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সেই আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দলকে পাকিস্তানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিনিদের অতিরিক্ত দাবিদাওয়া, অযৌক্তিক ও অবাস্তব প্রত্যাশা, অবস্থানে ঘনঘন পরিবর্তন, ধারাবাহিক স্ববিরোধিতা এবং তথাকথিত নৌ-অবরোধ (যা যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত বোঝাপড়ার লঙ্ঘন) এর পাশাপাশি হুমকি-ধমকিপূর্ণ হুঙ্কার এখন পর্যন্ত আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।’ সেখানে আরওলেকা হয়েছে যে, ‘এমন পরিস্থিতিতে গঠনমূলক আলোচনার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।’















