আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব’ ইস্যুতে ভারত ও চীনকে 'নরককুণ্ড' বা 'হেল-হোল' বলে কটাক্ষ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যার জবাব দিয়েছে ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে 'অনুচিত ও রুচিহীন' বলেছে বিদেশমন্ত্রের মুখপাত্র। এবার ভারতের পাশে দাঁড় ইরান। তেরান বলল, ‘কাভি ইন্ডিয়া আকে তো দেখো!’ (কখনও ভারতে এসে তো দেখো)।

শুক্রবার মুম্বইতে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিশানা করেন।‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে করা একটি পোস্টে কনস্যুলেট জেনারেল মহারাষ্ট্রের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক ঐতিহ্য তুলে ধরে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। মুম্বইয়ের কোলাহলপূর্ণ নগরজীবন থেকে শুরু করে গণেশ চতুর্থীর উদযাপন, সাতারা মালভূমির নিস্তব্ধতা এবং খান্দেশ অঞ্চলের তাপি নদীর উপত্যকা, সবকিছুই স্থান পেয়েছে সেই ভিডিওতে। কনস্যুলেট দাবি করেছে যে, ভারতে তাঁর একবার সফর ট্রাম্পের জন্য একটি ‘সাংস্কৃতিক ডিটক্স’ (মানসিক পরিশুদ্ধি) হিসেবে কাজ করতে পারে।

ভিডিওটির ক্যাপশনে লিখা হয়েছে, “হয়তো কারও উচিত মিস্টার ট্রাম্পের জন্য একটি ‘একমুখী সাংস্কৃতিক ডিটক্স’-এর ব্যবস্থা করা। এতে হয়তো তাঁর অহেতুক বকবকানি কিছুটা কমতে পারে 😏 কভি #India আ-কে দেখো, ফির বোলনা (আগে একবার ভারতে এসে দেখে যাও, তারপর কথা বোলো)।”

এর আগে বৃহস্পতিবার হায়দ্রাবাদে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল ভারত ও চীনের জোরালো পক্ষ নিয়ে বলেছিল যে, এই দু'টি দেশই হল “সভ্যতার আঁতুড়ঘর।”

ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে মুম্বইতে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল আরও যোগ করে, “বস্তুত, আসল ‘নরককুণ্ড’ তো সেটাই, যেখানকার যুদ্ধাপরাধী প্রেসিডেন্ট ইরানের সভ্যতাকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।”

এই বিবৃতির মাধ্যমে তেহরান ওই ট্রাম্পের অবমাননাকর মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে এবং ভারত-চীনকে ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতা হিসেবে তুলে ধরে।

বিতর্কের সূত্রপাত কীভাবে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি রক্ষণশীল রাজনৈতিক টক-শো-এর প্রতিলিপি শেয়ার করার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ওই শো-এর সঞ্চালক, মার্কিন রেডিও ব্যক্তিত্ব মাইকেল স্যাভেজ ভারত, চীন এবং অন্যান্য দেশকে ‘নরককুণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তিনি বর্ণনা করেছিলেন যে, এসব দেশ থেকে মানুষ গর্ভাবস্থার নবম মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায়, যাতে আমেরিকার জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনের সুবাদে তাদের সন্তানরা স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করতে পারে।

ট্রাম্প মাইকেল স্যাভেজের পডকাস্ট ‘স্যাভেজ নেশন’-এর ভিডিও এবং পূর্ণাঙ্গ প্রতিলিপিও শেয়ার করেছিলেন। ওই পডকাস্টে সঞ্চালক জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে না রেখে এ বিষয়ে একটি জাতীয় গণভোট আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে চলমান বিচার-বিবেচনার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

পরবর্তীতে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ট্রাম্প ভারতকে “একটি মহান দেশ” হিসেবেই গণ্য করেন, যে দেশটি পরিচালিত হচ্ছে “আমার অত্যন্ত ভাল একজন বন্ধুর” নেতৃত্বে। ট্রাম্পের

ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরোধিতা ভারতের
বিদেশ মন্ত্রক, ট্রাম্পের প্রচারিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং বলেছে, “আমরা ওই মন্তব্যগুলো দেখেছি, পাশাপাশি এর জবাবে মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রকাশিত পরবর্তী বিবৃতিটিও দেখেছি। এই মন্তব্যগুলো স্পষ্টতই তথ্যভিত্তিক নয়, অনুপযুক্ত এবং অরুচিকর। এগুলো নিশ্চিতভাবেই ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না, যে সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত।”