আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে, সময় যত এগোচ্ছে। শনিবার খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল পরিস্থিতি। তার মাঝেই সোমবার ইরান বিরাট দাবি করেছে। দাবি, নেতানিয়াহুর বাড়ি-কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান।
সোমবার ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে যে তারা ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অফিস এবং ইজরায়েলি বিমান বাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তর লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে হামলা চালানোর বিষয়টি।
ইজরায়েলি প্রতিবেদনগুলি আবার ইরানের দাবি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, নেতানিয়াহুর অফিসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তা মিথ্যা।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষ যত এগিয়েছে, তত জটিল হয়েছে পরিস্থিতি। সোমবার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, কুয়েতে ভেঙে পড়েছে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান। তবে দুর্ঘটনায় বিমানকর্মীদের কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। ঠিক কতগুলি বিমান ভেঙে পড়েছে বা সেগুলি কোন মডেলের, সে বিষয়ে কুয়েত প্রশাসনের তরফে খোলসা করে কিছু জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ নিয়েও ধোঁয়াশা।
কুয়েত সেনাবাহিনীর তরফে সোশ্যাল মিডিয়া 'এক্স' হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, “প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে আজ সকালে বেশ কিছু মার্কিন সামরিক বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। তবে বিমানে থাকা সমস্ত ক্রু সদস্য সুরক্ষিত আছেন।”
উত্তেজনাপূর্ণ, যুদ্ধ আতঙ্কে থাকা পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা। যুদ্ধের আবহে এই দুর্ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার সকালেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ইরানি সংবাদমাধ্যম 'প্রেস টিভি'-র প্রচার করা ফুটেজে দেখা গিয়েছে, একটি মার্কিন F-15E Strike Eagle বনবন করে ঘুরতে ঘুরতে মরুভূমির বুকে আছড়ে পড়ছে। অন্য একটি ক্লিপে দেখা যায়, বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই চালকরা প্যারাশুট নিয়ে বেরিয়ে আসছেন।
সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক ছবিতে দেখা গিয়েছে, প্যারাশুটে করে নামার পর একজন পাইলট মরুভূমির বালিতে বসে আছেন। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে আমেরিকা বা কুয়েত- কোনও দেশই এখনও পর্যন্ত সরকারি সিলমোহর দেয়নি। বিমানটি কোনও বিশেষ সামরিক অভিযানে যাচ্ছিল নাকি সাধারণ টহল দিচ্ছিল, তা-ও এখনও স্পষ্ট নয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছ থেকে কালো ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে আকাশে উঠতে দেখা যায়। খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে দমকল ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছয়। দূতাবাস চত্বরে কোনও সরাসরি হামলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
