আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতিতে রাজি ইরান। তবে মানতে হবে তিনটি শর্ত। এই তিন দফা শর্ত মানলেই ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বন্ধের ঘোষণা করল ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরু করেছিল। যুদ্ধের ১৩ দিনেও উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধ থামানোর জন্য ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তিনটি শর্ত দিয়েছে ইরান। শর্তগুলি হল, ১. ন্যায্য অধিকার থেকে ইরানকে বঞ্চিত করা যাবে না। ২. যুদ্ধের জেরে ইরানে যে ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৩. আগামী দিনে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা করবে না ইরানে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইরানের সংঘর্ষ বিরতির শর্ত তিনটি প্রকাশ্যে আসলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল কী পদক্ষেপ করতে চলেছে, তা এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি। গতকাল বুধবার রাতেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান এই তিনটি শর্ত জানিয়েছেন। যদিও তার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল এই শর্ত মানার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।
প্রসঙ্গত, ইরানে ইজরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান প্রায় শেষের পথে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবির পরেই মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে বড়সড় বদল দেখা গেল। অপরিশোধিত তেলের দাম আচমকাই কমে যায়। অন্যদিকে শেয়ার বাজারে হঠাৎই উত্থান দেখা গেল। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়লেও এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হওয়ার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।
তবে ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ তাঁর প্রাথমিক সময়সূচির তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গেছে। ওদের নৌবাহিনী নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই, বিমানবাহিনীও নেই।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘সামরিক দিক থেকে দেখলেও ইরানের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’ ট্রাম্প জানান, শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত যুদ্ধ চলার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু তার তুলনায় মার্কিন বাহিনী বর্তমানে অনেকটাই এগিয়ে। পরে ফ্লোরিডায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘খুব শিগগিরই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। যদি আবার সংঘাত শুরু হয়, তাহলে ইরানের ওপর আরও কঠোর আঘাত হানবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।’
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারির জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। মঙ্গলবার ইরানের এই সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধ কবে শেষ হবে সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, ঠিক করবে ইরানই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, আইআরজিসির এক মুখপাত্র ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যদি হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে হরমুজ প্রণালী থেকে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা হয় ‘সবার জন্য, নয়তো কারও জন্য নয়।’ অর্থাৎ উত্তেজনা আরও বাড়লে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহণেও বড় প্রভাব পড়তে পারে এমনই ইঙ্গিত দিয়ে রাখল ইরান।
