আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান থেকে খুব শীঘ্রই তল্পিতল্পা গোটাবে মার্কিন ফৌজ। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস থেকে এমনই ইঙ্গিত দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, বড়জোর আর দুই থেকে তিন সপ্তাহের অপেক্ষা। তার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে যাবতীয় সামরিক অভিযান শেষ করে দেশে ফিরবে মার্কিন সেনা।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হয়৷ এর পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া। তেলের এই দাম কবে কমবে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “আমি ইরান থেকে সেনা সরিয়ে নিলেই তেলের দাম হুড়মুড় করে কমতে শুরু করবে। সেই কাজটাই আমরা খুব দ্রুত করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “হাতে আর মাত্র দিন পনেরো। কাজ প্রায় শেষ। বড়জোর দু-একদিন বেশি লাগতে পারে।”
তবে সেনা সরানোর জন্য ইরানের সঙ্গে কোনও রকম চুক্তিতে যেতে রাজি নন ট্রাম্প। তাঁর সাফ কথা, “ওদের সঙ্গে কোনও রফা করার প্রয়োজন নেই। ওরা যাতে আর কোনও দিন পরমাণু অস্ত্র বানাতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করলেই আমরা চলে আসব। চুক্তি হলো কি হলো না, তাতে কিচ্ছু যায় আসে না।”
অন্য দিকে, যুদ্ধের পালটা হিসেবে ইরান ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ফলস্বরূপ বিপাকে পড়েছে বহু দেশ। এর জেরে বন্ধু দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর স্পষ্ট কথা, আমেরিকার ভরসায় বসে না থেকে অন্যান্য দেশগুলো নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করে নিক। ট্রাম্পের তোপ, “ফ্রান্স বা অন্য কোনও দেশের তেলের দরকার হলে তারা নিজেরাই হরমুজ প্রণালীতে যাক। আমাদের আর কিছু করার নেই। চিনও সেখানে গিয়ে নিজেদের ব্যবস্থা করে নিতে পারে।”
মঙ্গলবারই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, “আমেরিকা আর কাউকে সাহায্য করবে না। কারণ প্রয়োজনের সময় কেউ আমাদের পাশে ছিল না। ইরান এখন শেষ। কঠিন কাজটা আমরাই করে দিয়েছি, এবার নিজেদের তেল নিজেরা বুঝে নিন।”
একই সুরে কথা বলেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ-ও। তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন এই যুদ্ধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তাঁর দাবি, ইরানের সামরিক শক্তি এখন এতটাই দুর্বল যে তাদের আর পালটা লড়াই করার ক্ষমতা নেই। তবে এখনই স্থলপথে সেনা নামানোর সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না হেগসেথ। সম্প্রতি তিনি গোপনে একটি মার্কিন সেনা ঘাঁটি পরিদর্শন করে এসেছেন বলেও জানিয়েছেন।















