আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তাল ইরান। প্রয়াত রেজা শাহের নির্বাসিত পুত্র নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি খামেইনি শাসনের বিরুদ্ধে গণ-বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। এর পরই বৃহস্পতিবার রাতে ইরান জুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ এবং টেলিফোন লাইন বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
ইরানে খামেইনি বিরোধী দ্বাদশ দিনে পড়েছে। তেহরানের বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে স্লোগান, প্রতিবাদে মুখর। ফলে দেশব্যাপী অস্থিরতা তুঙ্গে। বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৩৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। সরকারের সমালোচনা করে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি।
ইতিমধ্যেই তাবরিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থেকে উড়ান ওঠা-নামা স্থগিত করা হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় NOTAM (বায়ু সেনাদের জন্য নোটিম) জারি করা হয়েছে।
এক্স বার্তায়, পাহলভি ইরান জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার জন্য খামেইনি সরকারের নিন্দা করেছেন। এই বিক্ষোভ, অস্থিরতার জন্য তেহরানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প। হস্তক্ষেপের কথা বলেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই সক্রিয়তায় খুশি ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ পাহলভি। ট্রাম্পকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। এক্সে তিনি লিখেছেন, "আজ রাতে লক্ষ লক্ষ ইরানি তাদের স্বাধীনতা দাবি করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, ইরানের শাসকগোষ্ঠী যোগাযোগের সমস্ত লাইন কেটে দিয়েছে। তারা ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। তারা ল্যান্ডলাইনও কেটে দিয়েছে। এমনকী তারা স্যাটেলাইট সিগন্যালও আটকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।"
পহেলভি আরও বলেন, "আমি মুক্ত বিশ্বের নেতা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, তিনি শাসনতন্ত্রকে জবাবদিহি করার প্রতিশ্রুতির কথা বলেছেন। ইউরোপীয় নেতাদের-সহ অন্যদের জন্য তাঁর নেতৃত্ব অনুসরণ করার, তাঁদের নীরবতা ভাঙার এবং ইরানের জনগণের সমর্থনে আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করার সময় এসেছে।"
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী নেটব্লকস জানিয়েছে যে, একাধিক পরিষেবা প্রদানকারীর মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যার ফলে দেশের বিশাল অংশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অফলাইনে রয়েছে। মনে করা হচ্ছে যে, দেশজুড়ে বিক্ষোভকে সামাল দিতে ডিজিটাল সেন্সরশিপ ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবারও ইরানের শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে আরও বাজার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিক্ষোভ ঘিরে হিংসতায় কমপক্ষে ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। ২,২৬০ জনেরও বেশি আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা।
এদিকে, বিক্ষোভ মূলত নেতৃত্বহীন রয়েছে, যার ফলে পাহলভির ডাক প্রতিবাদীদের গতি পরিবর্তন করবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
পাহলভি ইরানিদের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন
পাহলভি বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার রাত ৮টা (স্থানীয় সময়) বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যখন ঘড়ি বাজছিল, তখন তেহরানের আশেপাশের এলাকা স্লোগানে ফেটে পড়েছিল। স্লোগানের মধ্যে ছিল "স্বৈরশাসকের মৃত্যু!" এবং "ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের মৃত্যু!" অন্যরা শাহের প্রশংসা করে চিৎকার করে বলেছিল, "এটাই শেষ যুদ্ধ! পাহলভি ফিরে আসবে!" রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ দেখা যাচ্ছিল।
পাহলভি এক বিবৃতিতে বলেছেন, "ইরানের মহান জাতি, বিশ্বের চোখ তোমার উপর। রাস্তায় নেমে এসো এবং ঐক্যবদ্ধভাবে তোমাদের দাবিগুলো তুলে ধরো। আমি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র, তার নেতা এবং (বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী-কে সতর্ক করে দিচ্ছি যে, বিশ্ব এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প) তোমাদের উপর কড়া নজর রাখছে। জনগণের উপর দমন-পীড়ন চলবে না।"
ইরানি কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিত বিক্ষোভের জন্য প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। কট্টরপন্থী কাইহান সংবাদপত্র অনলাইনে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, নিরাপত্তা বাহিনী অংশগ্রহণকারীদের সনাক্ত করার জন্য ড্রোন মোতায়েন করবে। একই সময়ে, প্রশানিক কর্তারা বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা নাগাদ বিক্ষোভের ডাকের আগেও বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতার মাত্রা স্বীকার করেননি। তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী আহত বা নিহত হয়েছেন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানের নেতৃত্বকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া বাড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যা শুরু করে তবে আমেরিকা কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ট্রাম্প বলেন, "আমি তাদের জানিয়েছি যে তারা যদি মানুষ হত্যা শুরু করে, যা তারা তাদের হিংসার সময়ে করে থাকে, তাহলে আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব।" যদিও তিনি ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেছেন।
















