আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতিতে রাজি ইরান। তবে মানতে হবে তিনটি শর্ত। এই তিন দফা শর্ত মানলেই ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বন্ধের ঘোষণা করল ইরান। এসবের মাঝেই সামনে এসেছে বড় এক তথ্য। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে তথ্য, উপসাগরে মার্কিন মালিকানাধীন তেল ট্যাঙ্কারে ইরানে ড্রোন হামলা চালিয়তেছে এবং তাতে এক ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে।
তথ্য, বুধবার ইরাকের বসরার কাছে ইরানের হামলায় মার্কিন মালিকানাধীন অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালানোর সময় ভারতীয় ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়। বাগদাদের ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, জাহাজে থাকা বাকি ১৫ জন ভারতীয় ক্রু সদস্যকে সেখান থেকে সরিয়ে নিরাপদ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরাকের জলসীমায় হামলার পর পারস্য উপসাগরে আরেকটি তেল ট্যাঙ্কারে আগুন ধরার ঘটয়না ঘটে বলেও তথ্য। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক আইআরআইবি জানিয়েছে, ইরান হামলার দায় স্বীকার করেছে, জানিয়েছে, জলের নীলে ড্রোন হামলার মাধ্যম,এ দুটি তেল ট্যাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে বিস্ফোরক ভর্তি একটি 'আত্মঘাতী' ইরানি নৌকা দুটি জাহাজে আঘাত করতে পারে এবং তদন্ত চলছে। তার পরেই সামনে এসেছে এই ঘটনা।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরু করেছিল। যুদ্ধের ১৩ দিনেও উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধ থামানোর জন্য ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তিনটি শর্ত দিয়েছে ইরান। শর্তগুলি হল, ১. ন্যায্য অধিকার থেকে ইরানকে বঞ্চিত করা যাবে না। ২. যুদ্ধের জেরে ইরানে যে ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৩. আগামী দিনে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা করবে না ইরানে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইরানের সংঘর্ষ বিরতির শর্ত তিনটি প্রকাশ্যে আসলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল কী পদক্ষেপ করতে চলেছে, তা এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি। গতকাল বুধবার রাতেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান এই তিনটি শর্ত জানিয়েছেন। যদিও তার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল এই শর্ত মানার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।
প্রসঙ্গত, ইরানে ইজরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান প্রায় শেষের পথে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবির পরেই মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে বড়সড় বদল দেখা গেল। অপরিশোধিত তেলের দাম আচমকাই কমে যায়। অন্যদিকে শেয়ার বাজারে হঠাৎই উত্থান দেখা গেল। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়লেও এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হওয়ার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।
