আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইউরোপের অন্যতম ‘স্টার্টআপ-বান্ধব’ দেশ হিসেবে পরিচিত সুইডেনে ব্যবসা গড়ে তোলার পর শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন এক ভারতীয় উদ্যোক্তা। অভিযোগ তেমনটাই। অভিজিৎ নাগ বালাশুভ্রমন্য, এই উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, সুইডেনের অভিবাসন প্রক্রিয়ার ‘শত্রুতাপূর্ণ’ ও ‘অকার্যকর’ ব্যবস্থার কারণেই তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি বিক্রি করে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। 

হাইড্রো স্পেস সুইডেন এবি নামক কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন অভিজিৎ নাগ বালাশুভ্রমন্য। তিনি সম্প্রতি লিঙ্কডইনের এক পোস্টে জানান, তিনি কোম্পানিটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। কারণ মাসের শেষে তাঁকে সুইডেন ছাড়তে হবে। তাঁর কথায়, “আমি ইচ্ছাকৃতভাবে চলে যাচ্ছি, এমনটা নয়। একটি অযোগ্য রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থার মাধ্যমে আমাকে কার্যত উচ্ছেদ করা হল।” 


তাঁর অভিযোগ, সুইডেনের অভিবাসন দপ্তর তাঁকে ব্যবসা পরিচালনায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়নি। বারবার নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি, এমনকী প্রত্যাখ্যানের কারণও বারবার বদলানো হয়েছে। 

বালাশুভ্রমন্যর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মহলে সুইডেনকে যে ভাবে ‘স্টার্টআপ-বান্ধব’ দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়, বাস্তব তার থেকে অনেকটাই আলদা। বিশেষ করে বিদেশি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা, অস্পষ্ট নীতি এবং আমলাতান্ত্রিক মনোভাব বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর কেস অফিসারদের ব্যবসা পরিচালনা বা স্টার্টআপ কাঠামো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণাও ছিল না। ফলে তাঁর পক্ষে একটি উদ্ভাবনী কৃষি-প্রযুক্তি সংস্থার কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। 

গোটা প্রক্রিয়ায় তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি জানান।আইনি লড়াই লড়ার মতো মানসিক শক্তি তাঁর নেই। ফলে আইনি লড়াইয়ে না গিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, একটি ভাঙা এবং সম্ভবত জেনোফোবিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো শক্তি বা ইচ্ছে কোনওটাই নেই। মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই আমি দেশে ফিরছি।” 

তাঁর সংস্থা টেকসই কৃষি উৎপাদন নিয়ে কাজ করায় তিনি এও জানান যে, এই ধরনের প্রশাসনিক আচরণ সুইডেনের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তাকেও বিপন্ন করতে পারে। বালাশুভ্রমন্য ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মার্কেটিং ও টেকসই কৃষিতে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও রয়েছে তাঁর। উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ উদ্যোক্তা হয়েও অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে হয়েছে—এই ঘটনাই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। 

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রশ্ন তুলছে সুইডেনের ‘স্টার্টআপ-বান্ধব’ ভাবমূর্তি কি কেবল মুখোশ? বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য ঘোষিত নীতিমালা বাস্তবে কতটা কার্যকর?