আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুলিশ চাইলেই কতটা নিখুঁত কাজ করতে পারে তার আদর্শ উদাহরণ সামনে তুলে ধরল দুবাই। সে দেশে ঘুরতে গিয়ে এক ভারতীয় মহিলা ১২ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের সোনার গয়না ভুলবশত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। মাথায় হাত পড়েছিল তাঁর। কিন্তু তাঁকে হতাশ করেনি দুবাই পুলিশ। কয়েকদিনের মধ্যেই ওই মহিলার হাতে খোয়া যাওয়া সোনা তুলে দেওয়া হয়েছে।

ওই ভারতীয় মহিলার নাম কামিনী কান্নন। গত ২৩ বছর ধরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। জানুয়ারির শেষের দিকে সোনার দামে ওঠানামার সময় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুবাই সফরের সময় কামিনী তাঁর দীর্ঘমেয়াদী সোনার বিনিয়োগ পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নেন।

কামিনী তাঁর মূল্যবান জিনিসপত্র রাখার জন্য ব্যবহৃত থলেটি জীর্ণ হয়ে গিয়েছে দেখে সাময়িকভাবে সোনাগুলি অন্য একটি থলেতে সরিয়ে রাখেন। তিনি থলেটি ডাইনিং টেবিলে রেখেছিলেন, যার মধ্যে প্রতিটি ৮ গ্রাম ওজনের চারটি ২২-ক্যারেট সোনার মুদ্রা এবং একটি ৫০ গ্রাম ওজনের ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধ সোনার বার ছিল। তবে, দিনের বেলা  ঘর পরিষ্কার করার সময় থলেটি দুর্ঘটনাবশত ফেলে দেওয়া হয়।

পরিবারটি তাদের ভুল বুঝতে পারে পরের দিন সকালে। ১ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরার আগের দিন তারা তাদের ভুলটি বুঝতে পারেন। মরিয়া হয়ে খোঁজাখুঁজি করার পরে কামিনী জানতে পারেন যে তাঁর ছেলে অজান্তেই ব্যাগটি ফেলে দিয়েছে। এরপরেই সোনা খুঁজে পাওয়ার সব আশা ফিকে হয়ে যায়। তিনি খালিজ টাইমসকে বলেন, “ওই সোনার জিনিসগুলির বর্তমান মূল্য প্রায় ৫০ হাজার দিরহাম (ভারতীয় মুদ্রায় ১২ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা)।”

খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কামিনীর ছেলে অভিমন্যু পুলিশের কাছ থেকে সম্প্রতি একটি অপ্রত্যাশিত ফোন পান। খালিজ টাইমস জানিয়েছে, তিনি সাংবাদিকদের জানান কেউ তাঁদের হারানো জিনিসগুলি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে। পরে জানা গেল, তারা পুলিশ। অভিমন্যুকে পুলিশ জানিয়েছে, এক আবর্জনা সংগ্রহকারী সোনার গয়নাগুলি পেয়েছিলেন। তিনি সেগুলিকে সোনার বাজারে নিয়েও গিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করে পুলিশ জানতে পারে যে আবর্জনা থেকে ওই সোনার গয়নাগুলি পেয়েছিলেন।

ঘটনাটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে অভিমন্যু দুবাইয়ের খোয়া যাওয়া জিনিসেক উদ্ধার প্রক্রিয়া কতটা সুশৃঙ্খল ছিল তা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তাঁর মনে হয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বর্জ্য ট্র্যাক করার জন্য একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা রয়েছে বলে মনে হয়েছে। কোন আবর্জনার ব্যাগগুলি কোন স্থান থেকে এসেছে তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। 

পুলিশ এরপরে অভিমন্যুকে উপযুক্ত প্রমাণ দেখিয়ে সোনা নিয়ে যেতে বলে। অভিমন্যু নাইফ পুলিশ স্টেশনে গিয়ে সোনা গয়না ক্রয়ের বিল, নানা ছবি এবং নথি দেখিয়ে পুলিশের কাছ থেকে গয়নাগুলি নিয়ে আসেন। গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু অভিমন্যু সেটিকে ঝামেলামুক্ত বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি এও জানিয়েছেন, পুলিশ কর্মীরা অত্যন্ত সহযোগী।

হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র পুনরুদ্ধার করে দেওয়া এবং মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে দুবাইয়ের সুনাম রয়েছে। ট্যাক্সিচালক, বিমানবন্দর কর্মী এবং কর্তৃপক্ষের দ্বারা মানিব্যাগ, মূল্যবান জিনিসপত্র এবং হারিয়ে যাওয়া লাগেজ ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা প্রায়শই শোনা যায়, যা শহরটির দক্ষ ব্যবস্থা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধকে তুলে ধরে।