আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত ঘোষণা করার সময়ে এই দাবি করেন খোদ ট্রাম্প। যা নিয়ে নানা মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। সত্যিই কি রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করছে দিল্লি? এসবের মধ্যেই ভারতের সঙ্গে তেল বাণিজ্য নিয়ে মুখ খুলল মস্কো। 

মঙ্গলবার রাশিয়া বলেছে যে, রুশ তেল কেনা বন্ধ করা নিয়ে ভারতের কাছ থেকে তারা কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পায়নি। উল্টে মস্কোর দাবি,  নয়াদিল্লির সঙ্গে রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে আগ্রহী। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-কে জানিয়েছেন যে, রাশিয়া ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ককে মূল্য দেয় এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও উন্নত করতে থাকবে।

সোমবার থমকে যাওয়া ভারত-মার্কিন চুক্তি চূড়ান্ত হয়। এরপরই একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করলে এবং বাণিজ্য বাধা কমালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রপ্তানির উপর ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ১৮ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ভারত-সম্পর্কিত ট্রাম্পের মন্তব্য- রাশিয়া সতর্কতার সঙ্গে সবটা বিশ্লেষণ করছে।

ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা, এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে পেসকভ বলেন, "এখন পর্যন্ত আমরা এই বিষয়ে দিল্লি থেকে কোনও বিবৃতি শুনিনি।" পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সম্মান করি। কিন্তু আমরা রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে একটি উন্নত কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিকাশেও সমান গুরুত্ব দিই।" তিনি আরও বলেন, "এটা আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আমরা দিল্লির সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করতে চাই।"

২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারত কম দামে রুশ সমুদ্রবাহিত অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ ক্রেতাদের অন্যতম হয়ে ওঠে। যা ঘিরে আমেরিকা-সহ পশ্চিমী দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তাদের যুক্তি হল, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থ জোগাচ্ছে এই তেল বাণিজ্যই। তার আগে রাশিয়ার তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকা-সহ পশ্চিমী শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো।