আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভয়াবহ বিমান দূর্ঘটনা, তার মধ্যে থেকেই আশ্চর্যভাবে বেঁচে ফিরলেন সেই বিমানেরই এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট। বহু মানুষ এই ঘটনাকে মিরাকল বলে অভিহিত করেছেন।
বিমানটি এয়ার কানাডার একটি এক্সপ্রেস সিআরজে-৯০০ বিমান। এই প্লেনটি লাগার্ডিয়া এয়ার্পোর্টে অবতরণের সময়ে একটি ফায়ার ট্রাকের সঙ্গে ভয়াবহভাবে ধাক্কা খায়। বিমানটিতে মোট ৭২ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু মেম্বার ছিলেন। সেই ভয়াবহ সংঘর্ষে পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন।
তবে আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে ফিরে আসেন ওই বিমেনেরই লিড ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট সোলাং ট্র্যেম্বলে। দুর্ঘটনার সময়ে তিনি নিজের জাম্প সিটেই বাঁধা অবস্থায় ছিলেন। সেই অবস্থাতেই প্রায় ৩০০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন। এতে তাঁর পায়ের একাধিক হাড় ভাঙে। পাশাপাশি অস্ত্রোপচারও করা হয়েছে। তাঁর মেয়ে আমেরিকার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “মাকে যখন উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার করতে যান, তখনও তিনি সিটে বাঁধা অবস্থাতেই ছিলেন। কোনও এক অলৌকিক উপায় মা বেঁচে ফিরে এসেছেন। মনে হয়ে কোনও গার্জিয়ান এঞ্জেল (এমন এক শক্তি, যা মানুষকে রক্ষা করে) ওনাকে রক্ষা করেছেন।”
একটি ফায়ার ট্রাক রানওয়ে পার হচ্ছিল যখন, তখন এই ঘটনাটি ঘটে। ওই ট্রাকটিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল অন্য আর একটি বিমানে দিকে যাওয়ার জন্য। যে বিমানের দিকে যাচ্ছিল ট্রাকটি সেই বিমান বাতিল হয়। এক অদ্ভুত গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল বলে প্লেনটির টেকঅফ বাতিল করা হয়েছিল। সেই সময়েই অবতরণ করছিল এয়ার কানাডার এই বিমানটি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় বিমানটি এসে সরাসরি ট্রাকটিকে ধাক্কা মারে। ট্রাক ও বিমান, এই দু'টি যানই রানওয়ের এক মাথা থেকে অন্য মাথায় ছিটকে যায়।
অন্যদিকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের অডিওতে শোনা যায়, প্রথমে কন্ট্রোলার ট্রাকটিকে রানওয়ে পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে হঠাৎই চিৎকার শোনা যায়। কন্ট্রোলার চিৎকার করে ট্রাকটিকে থামতে বলেন। কিন্তু, ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। প্রায় মিনিট ২০ বাদে কন্ট্রোলার নিজের ভুল স্বীকার করেন। বলেন “একটা জরুরি কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। গন্ডগোল করে ফেলেছি।”
রেবেকা লিকুওরি নামের এক যাত্রী, দুর্ঘটনার মুহুর্ত বর্ণনা করে বলেন, “প্লেনটা নামার সময়ে হঠাৎ প্রবল ঝাঁকুনি শুরু হয়। তারপরে বুঝলাম খুব জোরে ব্রেক কষা হল। আর সঙ্গে সঙ্গে এক ভয়ঙ্কর শব্দ হল। সকলে নিজের সিট থেকে ছিটকে গেল। বহু মানুষের মাথা ফেটে গেল। অনেক রক্ত বের হচ্ছিল। আমি এটা ভেবেই খুব খুশি যে- অন্তত আমি বেঁচে আছি। প্রাণটা চলে যায়নি।” যাত্রীরা সকলেই একে অপরকে সাহায্য করেন এবং বিমানের ডানা দিয়ে বেরিয়ে আসেন।
তবে এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন দু’জন পাইলট। অ্যান্টনি ফরেস্ট এবং ম্যাকেঞ্জি ঘান্টার। দু’জনেই সবে নিজের ক্যারিয়ার সবে শুরু করেছিলেন বলে প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়। অ্যান্টনি ফরেস্ট-এর আত্মীয় জেনিথ জ্যাঞ্জনার কথায়, “ছোট থেকেই অ্যান্টনির লক্ষ ছিল পাইলট হবে। কিন্তু…” কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এই ঘটনাটে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেছেন ফেডেরাল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান ব্রায়ন বেডফোর্ড। এই দুর্ঘটনা ঘটার সময়ে আমেরিকার বিমান ব্যবস্থায় কিছু বড় সমস্যা চলছিল। যেমন, এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের অভাব, বহু জায়গায় নিরাপত্তাকর্মীর ঘাটতি, পাশাপাশি বহু এয়ারপোর্ট সরকারি নির্দেশে শাটডাউন করার কারণে বিমানবন্দরের নানা কাজে দেরি হচ্ছে। ফলে যে বিমানবন্দরগুলি খোলা আছে সেখানে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। এই বিষয়গুলিও দুর্ঘটনার পরোক্ষ কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা যেমন ভয়ঙ্কর এক ক্ষতির গল্প করে, তেমনই অন্যদিকে বলে অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে ফিরে আসার গল্পও। কখনও কখনও, সব হিসাব-নিকাশের বাইরে গিয়ে জীবন এমনভাবে ফিরে আসে, যে তাকে শুধু “অলৌকিক” বলেই মনে হয়।
