আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজস্থানের মরুভূমির বুকে বরফে ঢাকা ধু ধু প্রান্তর, কোনও প্রাকৃতিক দৃশ্য? শুনতে অবাক লাগলেও এমনই এক জায়গা রয়েছে রাজস্থানের আজমের জেলার কাছে।
জায়গাটির নাম কিষাণগড় ডাম্পিং ইয়ার্ড। দূর থেকে তাকালে মনে হবে যেন বরফে ঢাকা কোনও প্রান্তর বা চাঁদের মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা কোনও এক ধু ধু প্রান্তর।
সেই কারণেই এই জায়গাটি এখন পরিচিত ‘মুনল্যান্ড অব রাজস্থান’ নামে। কিষাণগড় মূলত ভারতের ‘মার্বেল সিটি’ হিসেবে পরিচিত। এশিয়ার বৃহত্তম মার্বেল ডাম্পিং ইয়ার্ডও এখানেই অবস্থিত।
বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার টন মার্বেল এবং সূক্ষ্ম ধুলো এখানে ফেলা হয়েছে। সেই শিল্পের বর্জ্য জমতে জমতেই তৈরি হয়েছে কৃত্রিম সাদা পাহাড় ও ঢিবি।
বর্ষার জল জমে মার্বেলের ফাঁকে ফাঁকে তৈরি হয়েছে নীল রঙের ছোট ছোট কৃত্রিম জলাধার, যা গোটা এলাকাকে আরও বেশি নজরকাড়া করে তুলেছে। বরফের দেশের মতো অদ্ভুত সুন্দর এই দৃশ্য ফ্যাশন শুট, বিয়ের ফটোশুট এবং পর্যটকদের জনপ্রিয় গন্তব্য।
কম খরচে সহজে পৌঁছনো যায় বলেই তরুণ প্রজন্মের কাছে এই জায়গার আকর্ষণ বেড়েছে বহুগুণ। এই অদ্ভুত সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ বলিউডের নজরও কেড়েছে।
কিস কিসকো প্যায়ার করু (২০১৫), দাবাং ৩ (২০১৯), বাঘি ৩ (২০২০), থার (২০২২)-এর মতো একাধিক ছবি এবং নোরা ফতেহির ‘ছোড় দেঙ্গে’, ইয়ো ইয়ো হানি সিং-এর ‘সাইয়াঁ জি’-সহ বেশ কয়েকটি মিউজিক ভিডিওর শুটিং হয়েছে এখানে।
দাবাং ৩-এর ‘ইউ কারকে’ বা বাঘি ৩-এর ‘দুস বাহানে ২.০’-এর মতো গান শুট করা হয়েছে এই ডাম্পিং ইয়ার্ডে। যা পরবর্তীকালে এই জায়গাটির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ভিড় করছেন বিশ্বের অন্যতম এই ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য দেখতে। ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হওয়া বহু ভিডিও ও ছবিতে ধরা পড়েছে কিষাণগড় ডাম্পিং ইয়ার্ডের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এটা এমন একটা জায়গা, যেখানে শিল্প আর প্রকৃতির মিলনে তৈরি হয়েছে এমন দৃশ্য, যা রাজস্থানে কল্পনাও করা যায় না।’
পর্যটকদের জন্য এই পর্যটনস্থলটি খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকাল ১১টার আগে অথবা বিকেল ৪টার পর এখানে এলে সূর্যাস্তের সময় সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
তবে সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে বিপদও। ডাম্পিং ইয়ার্ডে থাকা মার্বেলের বর্জ্যের সূক্ষ্ম ধূলিকণা শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যাঁদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের মাস্ক ব্যবহার করা এবং দীর্ঘক্ষণ সেখানে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখানকার জল অত্যন্ত দূষিত।
রাসায়নিক মিশ্রিত জল ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, তাই জলাশয়ের কাছাকাছি না যাওয়াই নিরাপদ। এই এলাকায় কোনও গাছপালা জন্মায় না।
সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব রাজস্থানের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ডাম্পিং ইয়ার্ডের ৬ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের ভূগর্ভস্থ জলে টিডিএসের মাত্রা অনুমোদিত সীমার চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। পাশাপাশি ফ্লোরাইড ও ভারী ধাতুর উপস্থিতিও আশঙ্কাজনক।
