আজকাল ওয়েবডেস্ক: জেফ্রি এপস্টেইনের কাছ থেকে প্রায় ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৬৮.৭ লক্ষ টাকা) গ্রহণের অভিযোগে বিতর্কে জড়ালেন যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন।

মার্কিন বিচার দপ্তর এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি সামনে আনার পরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি।

নথি অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে এপস্টেইন তিন দফায় ২৫ হাজার ডলার করে মোট ৭৫ হাজার ডলার পাঠান এমন কয়েকটি অ্যাকাউন্টে, যেগুলি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। 

প্রথম লেনদেনটি ২০০৩ সালের মে মাসে বার্কলেজ ব্যাঙ্কের একটি অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়, যা ম্যান্ডেলসনের সঙ্গী রেনাল্ডো দ্য সিলভার নামে ছিল। সেখানে ‘BEN’ (বেনিফিশিয়ারি) হিসেবে ম্যান্ডেলসনের নাম উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস।

পরবর্তী দুটি লেনদেন পাঠানো হয় এইচএসবিসি ব্যাঙ্কের এমন অ্যাকাউন্টে, যেগুলি শুধুমাত্র ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যুক্ত বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। যদিও ওই অর্থ আদৌ সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছিল কী না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে ২০০৯-১০ সালের মধ্যে এপস্টেইনের পক্ষ থেকে দ্য সিলভাকে আলাদা ভাবে হাজার হাজার পাউন্ড দেওয়ার প্রমাণও প্রকাশ পেয়েছে। এপস্টেইন ফাইলসে প্রকাশিত আরও বিতর্কিত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

সেখানে দেখা যাচ্ছে, লর্ড ম্যান্ডেলসনের অন্তর্বাস পরিহিত একটি ছবি। সেখানে তাঁর পাশে এক মহিলাকেও দেখা গিয়েছে। যদিও তাঁর মুখ ঝাপসা করে রাখা হয়েছে। ছবিটি কবে এবং কোথায় তোলা, তা জানা যায়নি।

এই প্রসঙ্গে ৭২ বছর বয়সি ম্যান্ডেলসন বিবিসিকে বলেন, ‘আমি জায়গাটিও চিনতে পারছি না, মহিলাটিকেও নয়। কী পরিস্থিতিতে ছবিটি তোলা হয়েছিল, তাও আমার মনে নেই।’

নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, গর্ডন ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ব্যবসা সচিব থাকাকালীন ম্যান্ডেলসন ব্যাঙ্কারদের বোনাসের ওপর প্রস্তাবিত কর সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন, যা নাকি এপস্টেইনের অনুরোধেই করা হয়।

এছাড়া, ২০০৩ সালে এপস্টেইনের খরচে দু’বার বিমানযাত্রা করেন ম্যান্ডেলসন। যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৭,৪৮৬ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬.৮৫ লক্ষ টাকা)।

এই যাত্রার কোনওটিই তিনি হাউস অব কমন্সের স্বার্থ ঘোষণার নথিতে উল্লেখ করেননি। লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদককে লেখা পদত্যাগপত্রে ম্যান্ডেলসন জানান, ঘটনায় সৃষ্ট ক্ষোভ ও বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্য তিনি ‘দুঃখিত ও অনুতপ্ত’।

তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর আগের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগগুলি তিনি মিথ্যা বলে মনে করেন এবং সেগুলি তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। দলকে আরও অস্বস্তিতে না ফেলতেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ম্যান্ডেলসনকে। তিনি ফের একবার এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এমনকী, মহিলাদের কাছেও নিঃশর্ত ক্ষমা’ চেয়েছেন তিনি। লেবার পার্টির সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর দাদু হারবার্ট মরিসন ১৯৪৫ সালে ক্লেমেন্ট অ্যাটলির সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে লেবার পার্টির হয়ে কাজ শুরু করেন ম্যান্ডেলসন।