আজকাল ওয়েবডেস্ক: মা মীরা নায়ারের নাম জেফ্রি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে উঠে আসার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নিউ ইয়র্কের সদ্য নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের প্রকাশিত সাম্প্রতিক ইমেলগুলিতে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ারের নামের উল্লেখ থাকায় বিষয়টি ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, মামদানির কিছু সমর্থকরাই তাঁর সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল মানুষ মেগাফোন হাতে গ্রেসি ম্যানশনের বাইরে দাঁড়িয়ে ‘শেম’ (লজ্জা) এবং ‘তুমি আমাদের মিথ্যে কথা বলেছ’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে বলেন, ‘আমরা তোমার সঙ্গে ছিলাম, জোহরান। আমরা তোমাকে ভোট দিয়েছি, তোমার হয়ে প্রচার করেছি। কিন্তু তুমি আমাদের কাছে মিথ্যে বলেছ। শেম!’
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় বিচার দপ্তরের প্রকাশিত একটি ইমেলকে কেন্দ্র করে। সেখানে মীরা নায়ারের নাম উঠে আসে। ওই ইমেল অনুযায়ী, ২০০৯ সালে এপস্টেইনের বান্ধবী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের নিউ ইয়র্কের টাউনহাউসে আয়োজিত একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
ইমেলে উল্লেখ রয়েছে, একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পর আয়োজিত ‘আফটার পার্টি’-তে মীরা নায়ারের পাশাপাশি প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ধনকুবের জেফ বেজোস-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।
২০০৯ সালের ২১ অক্টোবর মার্কিন পাবলিসিস্ট পেগি সিগালের পাঠানো ওই ইমেলে লেখা ছিল, ‘এইমাত্র গিসলেনের টাউনহাউসে ছবির আফটার পার্টি থেকে বেরোলাম।
সেখানে ছিলেন বিল ক্লিনটন ও জেফ বেজোস। জঁ পিগোজ্জি, পরিচালক মীরা নায়ারও ছিলেন। ছবিটি খুব একটা সাড়া পায়নি, যদিও মহিলাদের বেশি পছন্দ হয়েছে। হিলারি সোয়াঙ্ক ও রিচার্ড গিয়ার ছিলেন ব্লুমিংডেলসের এক অদ্ভুত পার্টিতে।’
তবে ওই ইমেলে সিনেমাটির নাম স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি মীরা নায়ারের ২০০৯ সালে তৈরি ছবি অ্যামেলিয়া। সেখানে বিমানচালক অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন হিলারি সোয়াঙ্ক এবং রিচার্ড গিয়ার ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস ‘এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর আওতায় এপস্টিন-সংক্রান্ত আরও প্রায় ৩০ লক্ষ নথি প্রকাশ করে।
২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আইনটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। নতুন করে প্রকাশিত নথির মধ্যে রয়েছে দু’হাজারেরও বেশি ভিডিও এবং প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি।
সব মিলিয়ে প্রকাশ্যে আসা নথির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৫ লক্ষ। এই নথিগুলি বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত। যার মধ্যে রয়েছে ফ্লোরিডা ও নিউ ইয়র্কে জেফ্রি এপস্টিনের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার কাগজপত্র, গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিচার সংক্রান্ত নথি, এপস্টিনের মৃত্যুর তদন্ত রিপোর্ট, তাঁর প্রাক্তন এক কর্মীর বিরুদ্ধে ফ্লোরিডার মামলা, একাধিক এফবিআই তদন্ত এবং এপস্টিনের মৃত্যুর বিষয়ে ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তরের পর্যালোচনা।
জোহরান মামদানি চলতি বছরের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনে তিনি প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করেন। ৩৪ বছর বয়সে মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ এবং প্রথম মুসলিম মেয়র হন।
