আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘুর উপর নির্যাতনের ঘটনা। আরও এক হিন্দু প্রৌঢ় গোষ্ঠীর হামলার শিকার হয়েছেন। নিহতের নাম খোকন দাস। ৫০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি শুরুতে গোষ্ঠী হামলার শিকার হন। গুরুতর জখম হন তিনি। এরপর উন্মত্ত জনতা তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলায় গত গতকাল (বুধবার, ৩১শে ডিসেম্বর) এই বীভৎস ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা গিয়েছে খোকন দাস বাড়ি ফিরছিলেন। মাধপথে তাঁর উপর একদল লোক ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়, মারধর করে। এরপর তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ডিসেম্বরের শেষদিকে আততায়ীদের গুলিকে খুন হয়েছেন বাংলাদেশের ইনকেলাব মঞ্চের অহ্বায়ক তথা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী ওসমান হাদি। এরপরই প্রতিবেশিটি দেশটিতে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে যায়। নানা জায়গায় নির্যাতন চালানো হয় সংখ্যালঘুদের উপর। সম্প্রতি এটা বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর চতুর্থ হামলার ঘটনা।

গত ২৪শে ডিসেম্বর, অমৃত মণ্ডল নামে ২৯ বছর বয়সী আরেক হিন্দু যুবককে বাংলাদেশের কালিমোহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় একদল লোক পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।  

এর আগে ১৮ই ডিসেম্বর, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় একটি কারখানায় এক মুসলিম সহকর্মীর মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগের ভিত্তিতে গণপিটুনির ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। জনতা দীপুকে হত্যা করার পর তাঁর মৃতদেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে দেয় এবং তারপর তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন পড়েছে। একাধিক মানবাধিকার সংস্থা এইসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।  

গত সপ্তাহে ভারত, বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ-সহ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে "অবিরাম শত্রুতা" নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। নয়াদিল্ল বলেছে যে, বারত সরকার প্রতিবেশী দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।