আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্রাজিলের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হেয়ার বলসোনারোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মামলার রায় এখন থেকে চূড়ান্ত, এবং এ বিষয়ে আর কোনও আপিল গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে ৭০ বছর বয়সি এই ডানপন্থী নেতাকে এখন ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতা হস্তান্তর ঠেকাতে বলসোনারো যে পরিকল্পনা করেছিলেন, তার মধ্যেই বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং তাঁর উপ-রাষ্ট্রপতি হেরাল্ডো আলকমিনকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েসকে আটক ও হত্যা করার পরিকল্পনার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়।
রায় ঘোষণার আগে পর্যন্ত বলসোনারো গৃহবন্দি ছিলেন। কিন্তু গত শনিবার তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে আটক হন, কারণ তদন্তকারী দল অভিযোগ করেছে—তিনি নিজের ইলেকট্রনিক অঙ্কেল মনিটর কেটে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে প্রকাশিত আদালতের নথিতে জানা যায়, বলসোনারো একটি সোল্ডারিং আয়রন ব্যবহার করে মনিটর ক্ষতিগ্রস্ত করেছিলেন। আদালতে তাঁর বক্তব্যে বলা হয়—তিনি ওষুধের কারণে মানসিক অস্থিরতা বা ‘পারানয়া’-তে ভুগছিলেন এবং কোনও পরিকল্পিত পালানোর ইচ্ছা তাঁর ছিল না। তবে এর আগে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়—তিনি “কৌতূহলবশত” ডিভাইসটি খোলার চেষ্টা করেছিলেন।
বিচারপতি মোরায়েস বলেন, বলসোনারোর আচরণে পালানোর অত্যন্ত শক্ত ইঙ্গিত ছিল, বিশেষত তাঁর বাড়ির কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায়। আদালত মনে করে, পরিস্থিতি এমনভাবে তৈরি হয়েছিল যাতে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের চেষ্টাও করতে পারতেন। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বলসোনারোর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাওয়ায় তাঁকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সহায়তা দিতে হবে।
২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি বলসোনারোর সমর্থকেরা ব্রাসিলিয়ায় সরকারী ভবনে হামলা চালায়। আদালতের মতে, এই হামলা ছিল তাঁর পরিকল্পিত প্ররোচনার ফল, যেখানে উদ্দেশ্য ছিল বিশৃঙ্খলার সুযোগে সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপে উৎসাহিত করা এবং নিজেকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। রায়ে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের সমর্থন না পাওয়ায় ষড়যন্ত্রটি ভেঙে পড়ে এবং লুলা ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি শান্তিপূর্ণভাবে শপথ নেন।
দণ্ডের পাশাপাশি বলসোনারোকে ২০৬০ সাল পর্যন্ত নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, ফলে রাজনৈতিকভাবে তাঁর ভবিষ্যৎ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে—এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত প্রমাণিত অন্যদেরও অবিলম্বে সাজা ভোগ করতে হবে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী জেনারেল অগুস্তো হেলেনো এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল পাওলো সেরজিও নোগেইরা।
বলসোনারো আদালতের রায়কে “রাজনৈতিক প্রতিশোধ” ও “ডাইনি শিকার” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই মামলা সাজানো হয়েছে যাতে তিনি ২০২৬ সালের নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার লড়াইয়ে এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীনদের আইনের ঊর্ধ্বে থাকার প্রবণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করল।
