আজকাল ওয়েবডেস্ক: এফ-১৬ ফ্যালকন—এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট, সুপারসনিক, মাল্টিরোল ফাইটার জেট—প্রথমে জেনারেল ডাইনামিক্স দ্বারা তৈরি হলেও বর্তমানে লকহিড মার্টিন এই যুদ্ধবিমানটি উৎপাদন করে। আকাশ থেকে আকাশে ও আকাশ থেকে স্থলে আঘাত হানার সক্ষমতাসম্পন্ন এই জেট বিশ্বজুড়ে অসংখ্য দেশের বায়ুসেনার প্রধান আস্থার প্রতীক। সামরিক শক্তি, প্রতিরক্ষা কৌশল এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে এফ-১৬-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বিশ্বের সেই পাঁচটি দেশ সম্পর্কে তুলে ধরা হল, যাদের কাছে সবচেয়ে বেশি এফ-১৬ ফাইটার জেট রয়েছে।
তাইওয়ান – ২০২টি এফ-১৬
তাইওয়ানের কাছে বর্তমানে রয়েছে ২০২টি এফ-১৬, যেগুলি মূলত আকাশসীমা রক্ষা এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করার জন্য ব্যবহৃত হয়। ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে এই জেটগুলি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে। দেশটি এফ-১৬-কে ধাপে ধাপে উন্নততর F-16V (Viper) কনফিগারেশনে আপগ্রেড করছে, যার ফলে রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, নিশানা নির্ধারণ ক্ষমতা এবং অস্ত্র ব্যবস্থায় এসেছে বড় পরিবর্তন। আকাশসীমা অক্ষুণ্ণ রাখতে এই জেটগুলি তাইওয়ানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
মিশর – ২১৮টি এফ-১৬
আফ্রিকার সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী হিসেবে পরিচিত মিশরের কাছে রয়েছে ২১৮টি এফ-১৬, যা তাদের ট্যাকটিক্যাল এয়ার পাওয়ারের প্রধান ভিত্তি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা এবং নিয়মিত আপগ্রেডের ফলে মিশরের এফ-১৬ ফাইটার ইউনিটগুলি আকাশ প্রতিরক্ষা, স্থল আক্রমণ, সীমান্ত নজরদারি ও বহুমুখী মিশনে বিশেষ সক্ষমতা অর্জন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে মিশরের কৌশলগত অবস্থান মজবুত রাখতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রভাব বাড়াতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় অবদান রাখতে এই জেটগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইজরায়েল – ২২৪টি এফ-১৬
ইজরায়েলের কাছে রয়েছে ২২৪টি এফ-১৬, যেগুলি বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও যুদ্ধপ্রস্তুত ফাইটার ফ্লিট হিসেবে পরিচিত। নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী ইজরায়েল অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক স্যুট, উন্নত রাডার ব্যবস্থা, সেন্সর ও অস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে এফ-১৬-কে ব্যাপকভাবে কাস্টমাইজ করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নির্ভুলতা এবং স্বতন্ত্র টেকনোলজির কারণে ইজরায়েলি এফ-১৬-কে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। আকাশ প্রতিরক্ষা, স্থল আক্রমণ, নজরদারি ও কৌশলগত প্রতিরোধ শক্তি বজায় রাখতে এগুলি ইসরায়েলের প্রধান অস্ত্র।
তুরস্ক – ২৪৩টি এফ-১৬
ইউরোপ ও ন্যাটো দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় এফ-১৬ বহর রয়েছে তুরস্কের, মোট ২৪৩টি। তুরস্ক নিজেদের প্রযুক্তিতে তৈরি "Özgür" আপগ্রেড প্যাকেজের মাধ্যমে জেটগুলিকে আরও উন্নত করছে। পাশাপাশি নতুন Block 70 মডেলের সংযোজনের ফলে আরও উন্নত রাডার, অ্যাভিওনিক্স ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত হচ্ছে। ন্যাটো মিশন, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শক্তি প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা দায়িত্ব পালনে তুরস্কের এফ-১৬ ইউনিটগুলি অত্যন্ত কার্যকর।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র – ৯৩৬টি এফ-১৬
২০২৩ সালে স্ট্যাটিস্টার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সর্বাধিক এফ-১৬ রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, মোট ৯৩৬টি। মার্কিন বায়ুসেনা, ন্যাশনাল গার্ড ও রিজার্ভ ইউনিট জুড়ে এই জেট বিভিন্ন ভূমিকায় ব্যবহৃত হয়—আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, স্থল আক্রমণ, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সমর্থন মিশনে।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, অত্যাধুনিক সেন্সর, বহুমুখী অস্ত্র বহনের ক্ষমতা এবং দীর্ঘদিনের অপারেশনাল অভিজ্ঞতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬-কে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ফাইটার ফ্লিটে পরিণত করেছে।
