আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে প্রকাশিত আদালত নথি ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দেওয়ায় ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে স্পষ্ট অস্বস্তি তৈরি হয়। বহু বছর ধরে চলা তদন্ত, সাক্ষ্য ও সিলমোহর খোলা নথির অংশবিশেষ জনসমক্ষে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়— কাদের নাম এসেছে, কার সঙ্গে কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, এবং এসব তথ্যের রাজনৈতিক প্রভাব কতদূর গড়াতে পারে।
এপস্টিনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচার ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ছিল। ২০১৯ সালে গ্রেপ্তারের পর নিউইয়র্কের কারাগারে তার মৃত্যুকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তার সহযোগী ম্যাক্সওয়েলের বিচার ও দণ্ডাদেশ বিষয়টিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময়ে আদালতের নথি সামনে আসায় বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম আলোচনায় আসে—যদিও কোনও নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা নয়।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা অভিযোগ তোলে যে অতীতে এপস্টিনের সঙ্গে পরিচিতি থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। অন্যদিকে ট্রাম্প শিবিরের বক্তব্য ছিল, পরিচিতি বা সামাজিক যোগাযোগকে অপরাধের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। তারা দাবি করে, নথি প্রকাশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে প্রশাসনকে বিব্রত করার চেষ্টা চলছে।
হোয়াইট হাউসের জন্য অস্বস্তির আরেকটি কারণ ছিল গণমাধ্যমের নিরবচ্ছিন্ন কভারেজ। প্রতিবার নতুন কোনও নথি প্রকাশ বা আদালতে দাখিল হলেই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে এপস্টিনের নাম, আর তার সঙ্গে যুক্ত পরিচিত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ। এতে প্রশাসনের নীতি, অর্থনীতি বা পররাষ্ট্র ইস্যুতে বার্তা দেওয়ার কৌশল বাধাগ্রস্ত হয়। রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন বিতর্ক জনমতের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে পারে এবং বিরোধীদের হাতে সমালোচনার অস্ত্র তুলে দেয়।
এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে নানা গুজব ও অপ্রমাণিত দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। প্রশাসনের পক্ষে বারবার স্পষ্ট করতে হয় কোন তথ্য যাচাই করা, আর কোনটি কল্পনা বা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব। এই তথ্যযুদ্ধ সামলানোও হোয়াইট হাউসের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি ঘিরে বিতর্কের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে জনআস্থার প্রশ্নে। উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের নাম আলোচনায় এলেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—ক্ষমতাবানদের জন্য কি আলাদা নিয়ম? যদিও বিচারব্যবস্থা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে, তবু রাজনৈতিক মেরুকরণের পরিবেশে যেকোনো ইঙ্গিতই বড় ইস্যু হয়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে, এপস্টিন নথি প্রকাশের ঢেউ ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের জন্য বারবার ব্যাখ্যা দেওয়া, বার্তা নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার এক কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। বিতর্ক থামেনি; বরং নতুন নথি প্রকাশ বা আইনি পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে তা আবারও আলোচনায় ফিরে আসে, যা প্রশাসনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তির কারণ হয়ে থাকে।
