আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের একটি প্রাথমিক স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যুদ্ধের বাজারে 'এমন ভুল হয়েই থাকে'। একে আলাদা করে না দেখে যুদ্ধের পরিস্থিতির নিরিখেই দেখা উচিত। 

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুনিয়াজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যেকার উত্তেজনাও এর ফলে আরও বেড়ে গেল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়েছেন, সাধারণ বাচ্চাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়নি। তাঁর কথায়, “কেউ এটা ইচ্ছে করে করেনি।” ট্রাম্প আরও জানান, পুরো ঘটনাটি নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। যুদ্ধে যে কত অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে, সে কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি ঘেরা জায়গায় এসে পড়ে, যার ভেতরে স্কুলটি ছিল। ইরানের দাবি, হামলায় ১৬৮ থেকে ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্কুল চত্বর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর ‘টমাহক ক্রুজ মিসাইল’ ব্যবহার করা হয়েছে। (যদিও সব রিপোর্টে এই দাবির সত্যতা মেলেনি।)

এই ঘটনার জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েলকে সরাসরি দায়ী করেছে ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একে ‘দুর্ঘটনা’ বলে মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, এটি একটি ‘পরিকল্পিত হামলা’। আন্তর্জাতিক আইন ভাঙার জন্য তিনি বিশ্বমঞ্চে এর বিচার চেয়েছেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি আমেরিকার টমাহক মিসাইলের মতোই দেখতে। তবে আসল সত্যিটা কী, তা জানতে এখনও তদন্ত চলছে। চূড়ান্ত কোনও প্রমাণ মেলেনি।

নিহত শিশুদের মনে রাখতে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল নিজেদের নাম দিয়েছে ‘মিনাব ১৬৮’। আগামী ফুটবল বিশ্বকাপের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফুটবলার ও সমর্থকেরা গোলাপি স্কুলব্যাগ ও মৃত শিশুদের ছবি নিয়ে মাঠে হাজির হবেন। খেলা শুরুর আগে নীরবতা পালন করছেন তাঁরা।

এই ঘটনার অভিযোগে বিশ্ব রাজনীতি এখন তোলপাড়। ঘটনার জেরে পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দায় কার, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় পশ্চিমী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত চাইছে।