আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য না জের। মঙ্গলবারেই বিরাট ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই দেশগুলিতে এখন বিমানের জ্বালানি সঙ্কট। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে চাইলে এই দেশগুলি তেল কিনতে না পারে। না হলে হরমুজ প্রণালী থেকে সরাসরি যেন তেল নিয়ে আসে তারা। এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের আর সাহায্য করবে না।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ব্রিটেন-সহ একাধিক দেশ, যারা পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেনি, তাদেরকে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, 'নিজেদের জন্য কীভাবে লড়াই করতে হয়, এবার শিখে নাও। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর তোমাদের পাশে থেকে সাহায্য করবে না, যেভাবে তোমরা আমাদের পাশে থাকোনি।"
সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প আরও লিখেছেন, 'ইরানকে এমনিতেও ধ্বংস করে দিয়েছি। কঠিন কাজ ইতিমধ্যেই শেষ। এবার নিজেরাই তেল জোগাড় করে নাও।" পাশে না-থাকা দেশগুলির উদ্দেশ্যে ট্রাম্প জানিয়েছেন, "তোমাদের জন্য দু'টি পরামর্শ রয়েছে। এক. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে পারো। আমাদের প্রচুর তেল মজুত রয়েছে। ২. সাহসী পদক্ষেপ করে সোজা হরমুজ প্রণালী থেকে তেল ছিনিয়ে আনো।"
সূত্রের খবর, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামাতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও ঘনিষ্ঠ মহলে ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা নিয়ে তাঁর আর মাথাব্যথা নেই। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলেও, তা নিয়ে আর চিন্তিত নন তিনি। বরং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধের চেষ্টা করছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমকে মার্কিন প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাংশ জানিয়েছেন, ঘনিষ্ঠমহলে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই সামরিক অভিযান তিনি থামাতে চান। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, সামরিক অভিযান থামলে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানের উপরে কূটনৈতিক চাপও তৈরি করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সেক্ষেত্রে ইউরোপীয় ও উপসাগরীয় 'বন্ধু' দেশগুলির সাহায্য চাইতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য 'বন্ধু' দেশগুলিকে সাহায্যের প্রস্তাব দিতে পারেন তিনি। যদি যুদ্ধ থেমে যায়, হরমুজ প্রণালী তারপরেও বন্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়বে। এমনকী ভারতেও তেলের বাজারে ধাক্কা আসতে চলেছে।
ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। যে কারণে অনেক দেশই রান্নার গ্যাসের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। কখনও কখনও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১৫০ ডলার ছুঁয়েছে। যুদ্ধ থামার পরেও হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ২০০ ডলার ছুঁতে পারে। যুদ্ধের আবহে ভারতে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাসের দাম বেড়েছে। যদিও গত কয়েকদিনে নতুন করে বাড়েনি পেট্রোল, ডিজেলের দাম। কিন্তু হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে পেট্রোল, ডিজেলের দাম আবারও বাড়তে পারে।














