আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানকে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরেই মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৫.৪৮ ডলারে পৌঁছেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার ২.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পর কিছুটা কমে ০.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৯.৬৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে। এই সপ্তাহের বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে নর্থ সি ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামও তীব্রভাবে ১.১৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১০.৩০ ডলারে পৌঁছেছে।
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য নতুন করে সময় বেঁধে দিয়েছেন ইরানকে। ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “মঙ্গলবার ইরানে একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস এবং সেতু দিবস হবে। প্রণালী না খুললে, জাহান্নামে ঠাঁই হবে।” তার আগে সময়সীমা বাড়িয়ে ট্রাম্প একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট করেন, “মঙ্গলবার, রাত ৮টা ইস্টার্ন টাইম!”
পোস্টটি করার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর অশালীন ভাষার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন, যা একজন রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য অস্বাভাবিক। খ্রিস্টানদের ইস্টার সানডের দিনে ‘আল্লাহ’র প্রশংসা করার জন্যও তিনি তীব্রভাবে সমালোচিত হন।
এর জবাবে ইরান হুমকি দিয়েছে যে, শত্রুরা অসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলে “আরও অনেক বেশি বিধ্বংসী” প্রতিশোধ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন যে, দেশের অবকাঠামোতে হামলা চালানোর ট্রাম্পের হুমকি যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে এবং তিনি আন্তর্জাতিক আইনের এমন কিছু বিধানের কথা উল্লেখ করেছেন যা লঙ্ঘিত হতে পারে।
২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হয়। সেই সংঘাতের এক মাসেরও বেশি সময় হয়ে গেলেও শান্তি ফেরার কোনও নাম নেই। যৌথ হামলার জবাবে ইরান উপসাগর জুড়ে মার্কিন ও ইজরায়েলি ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে। তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীও অবরোধ করেছে। এই প্রণালী বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত বন্দরগুলির জন্য হরমুজ প্রণালীই একমাত্র সামুদ্রিক পথ। এটি অবরোধ করার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তেলের দাম তীব্র বৃদ্ধি পেয়েছে।
















