আজকাল ওয়েবডেস্ক: মানুষের চেয়েও তারা যে বেশি বিশ্বস্ত এবং সংবেদনশীল, তার প্রমাণ মিলল চিনের জিলিন প্রদেশে। কুকুরের মাংসের বেআইনি কারবারিদের হাত থেকে পালিয়ে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে ১৭ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে নিজেদের মালিকের কাছে ফিরে এল সাতটি কুকুর। দীর্ঘ দুই দিনের এই লড়াইয়ে তারা প্রমাণ করে দিল, ঐক্যবদ্ধ থাকলে মৃত্যুকেও জয় করা সম্ভব।
জানা গেছে, জিলিনের একটি গ্রাম থেকে তিনটি পরিবারের মোট সাতটি পোষ্য কুকুরকে চুরি করেছিল পাচারকারীরা। একটি খাঁচাবন্দি করে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তাদের। কিন্তু মাঝপথেই চলন্ত ট্রাক থেকে খাঁচা ভেঙে হাইওয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। তারপর শুরু হয় এক রোমহর্ষক যাত্রা। পথ ভুলে আলাদা হয়ে যাওয়া নয়, বরং একটি ‘টিম’ হিসেবে কাজ করে তারা। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে দেখা গেছে, পুরো দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল একটি ছোট্ট কর্গি (Corgi)। সে বারবার পিছনে ফিরে তাকাচ্ছিল বাকিরা ঠিকঠাক আসছে কি না দেখতে। দলের মাঝখানে ছিল একটি চোট পাওয়া জার্মান শেফার্ড। তার হাঁটার গতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই বাকিরা পথ চলছিল। আর পুরো দলটির পাহারায় ছিল একটি গোল্ডেন রিট্রিভার।
লু নামের এক ব্যক্তি চ্যাংচুন হাইওয়েতে কুকুরগুলোর এই যাত্রা দেখে অবাক হয়ে যান। তিনি ভিডিওটি চিনের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ‘ডয়িন’-এ (Douyin) শেয়ার করেন। দ্রুত সেই ভিডিও ২৩ কোটির বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। কুকুরদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন স্বেচ্ছাসেবীরা, এমনকি ড্রোনের সাহায্যও নেওয়া হয় তাদের গতিবিধি নজরে রাখতে। টানা দুই দিন হাইওয়ে এবং খোলা মাঠ পেরিয়ে অবশেষে ১৯ মার্চ তারা নিজেদের গ্রামে ফিরে আসে।
চিনের উত্তরাঞ্চলে কুকুরের মাংস খাওয়ার চল থাকলেও তা নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। চুরির ঘটনাও সেখানে নতুন নয়। কিন্তু এই সাতটি সারমেয় যেভাবে একে অপরকে ছেড়ে না গিয়ে বিপদের দিনে পাশে থাকল, তা দেখে নেটনাগরিকরা মুগ্ধ। কেউ বলছেন, "গুগল ম্যাপ দেখেও মানুষ পথ হারায়, অথচ এরা একে অপরের প্রতি টান আর বুদ্ধির জোরে ১৭ কিমি পেরিয়ে ফিরল।" কেউ আবার কর্পোরেট অফিসের টিমওয়ার্কের সঙ্গে তুলনা করে এই কুকুরদের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। আপাতত নিজেদের বাড়িতে প্রিয়জনদের মাঝে নিরাপদে রয়েছে এই সাত বন্ধু।
