আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষ। বিশ্ব বাজারে দেখা দিয়েছে তেল ও জ্বালানির তীব্র সঙ্কট। কিন্তু চীনের মাটিতে পড়েনি সেই সঙ্কটের ছায়া। নিজের প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি তেল কিনে রেখেছে চীন। জমিয়ে রেখেছে নিজের কাছে। 

আমেরিকা–ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘর্ষে বিশ্ব বাজারে বাড়ছে তেলের দাম। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ। তেল সঠিক মাত্রায় পৌঁছচ্ছে না বিশ্বের দরবারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, তেলের যোগান স্বাভাবিক না হলে প্রতি লিটারের দাম ছাড়াতে পারে ১৫০ ডলার পর্যন্ত। আর তা যদি হয়, তবে বিশ্বে মন্দা দেখা দেবে। আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়ার পিছনে অন্যতম কারণ চীনের সঞ্চিত তেল। 

সূত্রের খবর, গত বছরের শুরু থেকেই চীন কিন্তু রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় তেল কিনেছে। সূত্রের দাবি প্রতি মাসে প্রায় ১–২ মিলিয়ন ব্যারেল অর্থাৎ প্রায় ১০–২০ লক্ষ ব্যারেল অতিরিক্ত তেল কিনেছে। পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞার ফলে অনেক কম দামে রাশিয়া সহ বাকি দেশগুলি চীনকে সস্তায় তেল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। 

চীনের সঞ্চয় ব্যবস্থা বিশাল। গত এক দশক ধরে তৈরি হয়েছে এই সঞ্চয় ব্যবস্থা। মাটির তলার বাঙ্কার থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যারেলে করেও তেল জমিয়ে রেখেছে চীন। জমিয়ে রাখা ব্যারেলের সংখ্যা প্রায় ১.২ বিলিয়ন বা ১২০ কোটি প্রায়। শুধু সরকারিভাবেই এই তেল সঞ্চিত হয়েছে এমনটা নয়, বেসরকারি ব্যবসায়ীরাও জমিয়ে রেখেছেন তেল। সরকারি সহায়তায়। 

এই ঘটনায় চীন নিজের লভ্যাংশ গুটিয়েছে অনেকখানি। এখন গোটা বিশ্ব বেশি দামে তেল কিনছে। কিন্তু চীনের ঘরে কম দামে কেনা সঞ্চিত তেল যথেষ্ট রয়েছে। বাকি বিশ্বের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেছে। তবে অনুমান, যেহেতু অনেক বেশি অংশের তেল জমিয়ে রেখেছে নিজের কাছে, ফলে বাকি বিশ্বের কাছে তেলের দাম বাড়ছে আরও একটু বেশি। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বড় তেলের ক্রেতা চীন। সঞ্চিত তেলের ফলে আপাতত তেল কেনার প্রশ্ন উঠছে না। ফলে বাকি দেশগুলির জন্য তেলের দাম বাড়তে পারে। পাশাপাশি, তেলের যোগান পৃথিবীতে সীমিত। সেই সীমিত যোগানের একটা বড় অংশ কম দামে কিনে ফেলেছে চীন। যোগান কম এবং চাহিদা বেশি হলে দাম বাড়ে। ফলে তেলের দাম বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। 

মূলত পশ্চিমের দেশগুলি জরুরিকালীন সময়ে তেল কেনে। কিন্তু চীন করেছে ঠিক উল্টোটা। যখন বাজারে দাম কম ছিল, তখন অতিরিক্ত কিনে রেখেছে। এখন বিশ্ব পরিস্থিতির সামনে এসে তার সুবিধা ভোগ করছে। এই সঙ্কটের সময়ে নিজের সঞ্চিত তেলই ব্যবহার করা হচ্ছে। 

পশ্চিমের দেশগুলির এখন মাথায় হাত। চড় চড় করে বাড়তে থাকা তেলের দাম কমতে পারে, যদি চীন নিজের সঞ্চয়ের কিছুটা বিশ্ব বাজারে বিক্রি করে। অর্থাৎ চীন এখন শুধু তেলের ক্রেতাই নয়, এই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে চীন এখন তেলের বাজারও চাইলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এখন প্রশ্ন চীন কি তবে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাপারে বছর খানেক আগে থেকেই জানতে পারেছিল?