আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মধ্য এশিয়াতে যখন সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে এবং ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, তখন একেবারেই ভিন্ন পথে হাঁটছে চীন। যেখানে অন্য শক্তিধর দেশগুলি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে, সেখানে বেইজিং যেন ‘দেখো এবং অপেক্ষা করো’ নীতি গ্রহণ করেছে।


এই পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে একটি কথাই ঘুরছে—“Eat 5-star, do nothing”। অর্থাৎ, আরাম করে নিজের অর্থনীতি ও স্বার্থ রক্ষা করো, কিন্তু সংঘাতে জড়িও না। চীনের এই অবস্থানকে অনেকেই কৌশলগত নীরবতা বলে ব্যাখ্যা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই চীনের জন্য তা লাভজনক হতে পারে। কারণ এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ও সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যে ব্যস্ত থাকবে, ফলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।


অন্যদিকে, চীন সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না কারণ তার বড় অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে। ইরান চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ, আবার সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গেও বেইজিংয়ের গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে কোনও এক পক্ষকে সমর্থন করলে সেই ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।


এছাড়াও, চীন নিজেকে একজন ‘স্থিতিশীল শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়, যে সংঘাত নয় বরং কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে বিশ্বাসী। অতীতে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতা করে চীন এই ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করেছে।


বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ আসলে খুবই সক্রিয় ও হিসেবি কৌশল। চীন সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি নিচ্ছে না, কিন্তু পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে নিজের স্বার্থ সর্বাধিক করার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এটিকে অনেকেই ‘স্ট্র্যাটেজিক পেশেন্স’ বা কৌশলগত ধৈর্য বলে থাকেন।


তবে এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদি সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে বা বিশ্বের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে, তাহলে চীনকে হয়তো শেষ পর্যন্ত অবস্থান নিতে বাধ্য হতে হতে পারে।

 

&t=546s
সব মিলিয়ে, মধ্য এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে চীনের ‘কিছু না করা’র কৌশল আসলে একটি সূক্ষ্ম ও গভীর রাজনৈতিক হিসাব, যা বিশ্ব রাজনীতির নতুন বাস্তবতাকে সামনে তুলে ধরছে।