আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে চলতি বর্ষের নির্ধারিত দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা স্থগিত করেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)।
রবিবার সিবিএসইর পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘সোমবার অর্থাৎ ২ মার্চ দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির সব পরীক্ষা স্থগিত করা হল। পরীক্ষার নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।’
বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাহরিন, ইরান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ৩ মার্চ পরিস্থিতি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। এরপর ৫ মার্চ থেকে নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বোর্ড ৩ মার্চ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।’
এর আগে রবিবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি নাকচ করে দেয় সিবিএসই। ওই ভুয়ো নোটিশে দাবি করা হয়েছিল, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে কিছু বোর্ড পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
সিবিএসই পড়ুয়াদের সতর্ক করে জানায়, এই ধরনের ভুয়ো তথ্যের ওপর বিশ্বাস না করতে এবং যে কোনও সরকারি ঘোষণা কেবলমাত্র নির্ধারিত ও অনুমোদিত মাধ্যম থেকেই অনুসরণ করতে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ স্কুলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার এবং শুধুমাত্র সিবিএসইর সরকারি বিবৃতির ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরে ভারতে এবং বিদেশে মোট ২৬টি দেশে সিবিএসই বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৪৩ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী।
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বর্তমানে ১৮০টিরও বেশি সিবিএসই অনুমোদিত স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্কুল রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। সেখানে স্কুলের সংখ্যা ১০০টিরও বেশি।
ভারতের বাইরে সিবিএসই স্কুলের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেই। সেখানে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় প্রবাসী পড়ুয়া পড়াশোনা করছে।
রবিবার সকালেই কুয়েতে অবস্থিত আমেরিকার একটি নৌঘাঁটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছুড়েছে ইরানের সেনাবাহিনী (আইআরজিসি)।
তেহরানের দাবি, তাদের এই হানায় মার্কিন ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে বহু সেনার। যদিও ওয়াশিংটন এই ক্ষয়ক্ষতির দাবি মানতে নারাজ।
গোটা ঘটনার মূলে রয়েছে ইরান এবং ইজরায়েল-আমেরিকা জোটের সাম্প্রতিক সংঘাত। সূত্রের খবর, গত রাতে ইরান জুড়ে ব্যাপক বিমান হানা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল।
সেই হামলাতেই তেহরানে নিজের দপ্তরে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ৮৬ বছর বয়সি আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘ইরনা’।
এই ঘটনাকে ‘বড় অপরাধ’ বলে দেগে দিয়ে ইরানের মন্ত্রিসভা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এর যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পক্ষ থেকে জারি করা ‘৪ নম্বর বিবৃতিতে’ জানানো হয়েছে কুয়েতের আবদুল্লাহ মুবারক এলাকায় ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
জেবেল আলি বন্দরে আমেরিকার একটি অস্ত্রবাহী জাহাজকে বিকল করে দিয়েছে ইরানি ড্রোন। একইসঙ্গে জ্বালানিবাহী একটি যুদ্ধজাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
