আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সামুদ্রিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে। রবিবারই করাচি থেকে দ্বিতীয় মালবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। পানামার পতাকাবাহী জাহাজ 'এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝান'য়ের গতিবিধি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।‘ঢাকা ট্রিবিউন’, ‘ডেলি অবজার্ভারে’র প্রতিবেদন অনুসারে, জাহাজটি করাচি এবং দুবাইয়ের পর চট্টোগ্রামে এসেছে। জাহাজটিতে চিনি, সোডা অ্যাশ, ডলোমাইট এবং মার্বেল ব্লকের মতো প্রয়োজনীয় শিল্প সামগ্রীর ৮১১টি কন্টেনারে মজুত রয়েছে। এছাড়াও ইলেকট্রনিক পণ্যও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডঃ মহম্মদ ইউনূস মিশরের কায়রোতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেখানে ঢাকা ও ইসলামাবাদ বাণিজ্য, ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করতে জোর দেওয়া হয় উভয় তরফেই। পাশাপাশি, ১৯৭১ সালের বেশ কিছু ইস্যু নিষ্পত্তি করার জন্য ইউনূস শেহবাজের কাছে আবেদনও করেন। এরপরই চট্টোগ্রাম বন্দরে পাক জাহাজের নোঙর ভারতীয় প্রেক্ষিতে যথেষ্ট তাৎপর্যবাহী।
ইকনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি করতে একপ্রকার বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়াও উল্লেখ রয়েছে যে, বাংলাদেশের জাহাজ মন্ত্রক ভারত-বাংলাদেশ ‘শিপিং চুক্তি’ পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছে, যার প্রেক্ষিতে ভারতকে চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দরে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর বঙ্গোপসাগরে একবারে কাছে হওয়ায় তা কৌশলগতভাবে ঢাকা ব্যবহার করত। শেখ হাসিনার আমলে ভারত চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করত, নজরদারিও ছিল তীক্ষ্ণ। ২০০৪ সালে এই বন্দর থেকে প্রায় দেড় হাজার চিনা গোলাবারুদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। ওই গোলাবারুদ চালান পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা, ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ। গোলাবারুদ ভারতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন উলফা (ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ অসম)-এর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল বলে গোয়েন্দাদের অনুমান।
গত কয়েকক মাসে বাংলাদেশে ইসলামি মৌলবাদ পুনরুত্থানের ফলে ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে এবং উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে মদত যোগাতে পারে বলে দিল্লির আশঙ্কা৷ পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ভারতের দাবি, চট্টোগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে পাকিস্তান থেকে আগত সব জাহাজ ও কন্টেনারে কড়া নদরদারি চালাতে হবে।
















