আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশের পুলিশের গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, ময়মনসিংহের ভালুকায় হিন্দু দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনায় বুধবার আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম মহম্মদ ইয়াসিন আরাফাত। বয়স ২৫ বছর। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুনকে উদ্ধৃত করে সে দেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, বুধবার বিকেলে ঢাকার ডেমরা থানা এলাকার সারুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, দীপু হত্যাকাণ্ডে ইয়াসিন ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ পালন করেছিল।
মামুন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ইয়াসিন কাশার এলাকার শেখবাড়ি মসজিদে ইমাম এবং মদিনা তাহফিজুল কোরান মাদ্রাসার শিক্ষকও ছিলেন। তিনি আরও জানিয়ে যে, হত্যাকাণ্ডের পর ইয়াসিন আত্মগোপন করেছিলেন এবং প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে পলাতক ছিলেন। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন লেখা হয়েছে, মামুন জানিয়েছেন, “ইয়াসিন অন্যদের সঙ্গে মিলে হত্যাকাণ্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। হত্যার পর সে আত্মগোপন করে এবং সারুলিয়ার বিভিন্ন মাদ্রাসায় ১২ দিন ধরে লুকিয়ে ছিল। সে সুফফা নামের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবেও যোগ দিয়েছিল।”
পুলিশের জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অন্যান্য সন্দেহভাজনদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ, তদন্ত এবং হত্যাকাণ্ডের সময় কারখানার গেটে কী ঘটেছিল তার বর্ণনা থেকে দীপু হত্যায় ইয়াসিনের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ইয়াসিনকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করেছে। এই মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই মামলায় এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং রিমান্ড শেষে ১৮ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ন’জন অভিযুক্ত জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তিনজন মূল সাক্ষী ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে উন্মত্ত জনতা দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর প্রকাশ্য রাস্তায় তাঁর মৃতদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের লোকজন ধর্ম অবমাননার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন কর্মক্ষেত্রে বিবাদের জেরে দীপুকে খুন করা হয়েছে। দাপুর হত্যাকাণ্ড ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়িয়ে তুলেছে এই ঘটনা। এখানেই থেমে থাকেনি সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন।
গত ১২ ডিসেম্বর ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হিংসা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৪০ বছর বয়সী দোকানি শরৎমণি চক্রবর্তীকে সোমবার রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়। সেই আঘাতের কারণে মারা যান। তাঁকে হত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে যশোর জেলায় ৪৫ বছর বয়সী রানা প্রতাপকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রতাপের দেহের পাশে সাতটি গুলির খোল পাওয়া গিয়েছে।
৩ জানুয়ারি ঝিনাইদহ জেলায় এক হিন্দু নারীকে দু’জন ধর্ষণ করে। এর পর নির্যাতিতাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে তাঁর চুল কেটে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাটির ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর কয়েকদিন আগে ৫০ বছর বয়সী খোকন চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন ভালুকার একটি পোশাক কারখানায় সহকর্মীর হাতে নিহত ৪০ বছর বয়সী বাজেন্দ্র বিশ্বাস, রাজবাড়ীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হন ২৯ বছর বয়সী অমৃত মণ্ডল।
