আজকাল ওয়েবডেস্ক: সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা কোনও  সংগঠনের কার্যক্রম সরাসরি নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে জাতীয় সংসদে পাস হল ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’। আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মাধ্যমে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা বহুল আলোচিত সেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি এখন স্থায়ী আইনে রূপ নিল।

এই নতুন আইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, কোনও সত্তা বা সংগঠনের কেবল নাম নিষিদ্ধ করাই নয়, বরং তাদের যাবতীয় রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা পেয়েছে সরকার। আগে এই আইনে কোনও  ব্যক্তি বা সত্তাকে কেবল তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তাদের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে অস্পষ্টতা ছিল। এখন থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনও  সংগঠন কোনও  ধরনের মিছিল, জনসভা, সংবাদ সম্মেলন বা জনসমক্ষে বক্তৃতা দিতে পারবে না। এমনকি গণমাধ্যম, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের পক্ষে কোনও  ধরনের প্রচারণা বা প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

বিলটি পাসের সময় সংসদে কিছুটা বিতর্ক ও নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এই স্পর্শকাতর আইনটি পর্যালোচনার জন্য বাড়তি সময় দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিল সংক্রান্ত তুলনামূলক নথিপত্র তারা হাতে পেয়েছেন অধিবেশন শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে, যা পড়ে দেখার মতো যথেষ্ট সময় পাননি। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই আপত্তি নাকচ করে দিয়ে বলেন, বিল পাসের এই পর্যায়ে এসে নতুন করে আপত্তির কোনও  আইনি সুযোগ নেই।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি মূলত একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে আনা সংশোধনী। তিনি গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, জনমতের ভিত্তিতেই ওই সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনে তাদের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংশ্লিষ্ট দল ও নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের সব ধরনের সাংগঠনিক তৎপরতা বন্ধ রাখতেই এই আইনি পদক্ষেপ জরুরি ছিল।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যেগুলোকে আইনে রূপ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল, তার মধ্যে এই সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনটি অন্যতম। যদিও বিশেষ কমিটি কিছু সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত কোনও  পরিবর্তন ছাড়াই অধ্যাদেশের মূল বিষয়বস্তু হুবহু বজায় রেখে বিলটি পাস করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত কোনো সংগঠন বা সত্তার নাম ও কাজ—দুই-ই আইনের চোখে অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।